মরদেহ নেয়া হবে সিলেটে হারিছ চৌধুরীর , জানাজা রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মরদেহ ঢাকা থেকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর রোববার (২৯ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে জানাজা।

শুক্রবার হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাবার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটে নেয়া হবে। পরে রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সামিরা তানজিন চৌধুরী আরো বলেন, সব ঠিক থাকলে সে দিনই বাদ আছর কানাইঘাট উপজেলায় বাবার প্রতিষ্ঠিত ‘শফিকুল হক চৌধুরী মেমোরিয়াল এতিমখানা’ আঙিনার নির্ধারিত স্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে এক মিথ্যা প্রোপাগান্ডা তৈরি করা হয়েছিল। তাকে ভিন্ন নামে দাফন করা হয়েছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রহস্য ও বিভ্রান্তি ছিল। তবে ডিএনএ রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে মাহমুদুর রহমান নামে সাভারে দাফন করা মরদেহটি আসলে হারিছ চৌধুরীর।

গত ৬ নভেম্বর আদালতে ডিএনএ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী বলেন, আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় বারবার হেনস্তা করা হয়েছে, তার মৃত্যু নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনার। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক ছিলেন। তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। আমরা চাই, লাশের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে এই ধোঁয়াশা দূর হোক।

হারিছ চৌধুরী ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ৬৮ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এরপর তার মরদেহ ঢাকার অদূরে সাভারের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয় এবং আদালত লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন।

পরে ১৬ অক্টোবর সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর জালালাবাদ এলাকার জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীন মাদরাসা কবরস্থান থেকে হারিছ চৌধুরীর দাফন করা লাশটি উত্তোলন করা হয়। ২১ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশে তার মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী সিআইডি কার্যালয়ে গিয়ে ডিএনএ নমুনা জমা দেন।

এ বিষয়ে সিআইডি সূত্র জানায়, দুই সপ্তাহ পর ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায়, যা সাভার থানা পুলিশকে পাঠানো হয়।

৩ দিন আগে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ডিএনএ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে এবং লাশটি হারিছ চৌধুরীরই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষা ও লাশ উত্তোলনের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনা আসার আগে ২০১৮ সালে হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল। এছাড়া দুদকের দুর্নীতি মামলায়ও তার বিরুদ্ধে সাজার আদেশ হয়। ২০১৮ সালে ইন্টারপোলও তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ ইস্যু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *