কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের সন্তানদের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। জামায়াতের একার পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করতে পারলে দেশ উপকৃত হবে। দেশ ভালো হলে দেশের মানুষ হিসেবে আমরা উপকৃত হবো। এজন্য জামায়াত একার পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।
শুক্রবার রাত ৯টার সময় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আয়োজনে সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা রাজনীতি করে তাদের রাজকীয় মনোভাব হতে হবে, সুশৃঙ্খল হতে হয়। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ হয়ে আমি লজ্জিত বিগত সরকারের দুঃশাসনের দেখে। রাজনীতিবিদ হতে হলে দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
কারোর ওপর জুলুম হোক এটা কামনা করি না উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর ভয়াবহ জুলুম করেছে কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমরা পুলিশকে সহযোগিতার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিলাম। আমরা পুলিশকে সহযোগিতা করতে চাই। ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলোতে আমাদের নেতা-কর্মীরা পাহারা দিয়েছে।
তিনি বলেন, কারোর ওপর জুলুম হোক এটা কামনা করি না। প্রকৃত দোষীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের কোনো নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা যাবে না। তবে প্রকৃত দোষীর শাস্তি নিশ্চিতে জামায়াত কঠোর থাকবে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার।
এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য যশোর অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আল্লামা শামীম সাঈদী, অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান, জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বাস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া অ্যান্ড ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক আ ছ ম তরিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া কুওয়াতুল ইসলাম আলীয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় জেলা জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে আলেম-ওলামা, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষরা অংশ নেন।