চীনেই কেন ভাইরাসের বিস্তার বেশি মহামারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যে দিকেই তাকাই সবার মুখে মাস্ক। চোখে ভীতি, কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। বলছিলাম চীনের হাসপাতালগুলোর সাম্প্রতিক চিত্রের কথা।

চীনে নতুন আতঙ্ক হিসেবে দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এই ভাইরাসটি করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে।

বেইজিংও স্বীকার করেছে যে ফ্লু-সদৃশ হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) এর প্রাদুর্ভাব দেশটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর মাত্রা ভয়াবহ। তবে এটিকে মৌসুমি ভাইরাস বলে দাবি করছে চীন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এইচএমপিভি কোভিড-১৯ এর মতো নয়। ভাইরাসটি কয়েক দশক ধরে রয়েছে। চীনে প্রায় প্রতিটি শিশুই তাদের পঞ্চম জন্মবছরে এর দ্বারা সংক্রমিত হয়। করোনার মতো মহামারি না হলেও অল্পবয়সী শিশু এবং দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেমের লোকেদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

এইচএমপিভি বা হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস এমন একটি ভাইরাস যা প্রধানত মানুষের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং বেশিরভাগ লোকের ক্ষেত্রে ফ্লু থেকে কার্যত এটিকে আলাদা করা যায় না।

২২০১ সালে নেদারল্যান্ডসে প্রথম এটি শনাক্ত করা হয়েছিল, ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বা এটিতে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো দূষিত পৃষ্ঠকে স্পর্শের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ লোকের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে কাশি, জ্বর এবং নাক বন্ধ হওয়া।

সিঙ্গাপুরের সংক্রামক রোগের চিকিৎসক হু লি ইয়াং বলেছেন, দুই বছরের কম বয়সী শিশুসহ খুব অল্পবয়সীরা ভাইরাসের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি এটির ঝুকিতে রয়েছে। তবে এটিতে আক্রান্ত হয়ে ফুসফুস সংক্রামিত কিংবা হলে আরো গুরুতর রোগের বিকাশ ঘটাতে পারে।

ডা. হু আরো বলেন, অনেকেরই হাসপাতালের যত্নের প্রয়োজন হবে, সংক্রমণ থেকে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে অল্প সংখ্যক মানুষই রয়েছেন।

গবেষণা বলছে, এইচএমপিভি ভাইরাস শীতের শেষের দিকে এবং বসন্তকালে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে চীনে। এই ভাইরাসটি ঠান্ডায় ভালোভাবে বেঁচে থাকে এবং দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এসময় লোকেরা প্রায়শই বাড়ির ভেতরে থাকার কারণে সহজে একজন থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

উত্তর চীনকে, বর্তমান এইচএমপিভি ভাইরাসের হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করছে দেশটি। নিম্ন তাপমাত্রার কারণে এই পরিস্থিতি মার্চ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশ, এইচএমপিভি-এর বর্ধিত প্রকোপ অনুভব করছে, বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজিস্ট জ্যাকলিন স্টিফেনস। যদিও সম্ভবত এটি শীতকালের স্বাভাবিক মৌসুমী বৃদ্ধি বলে মনে করছেন তিনি।

সাম্প্রতিক বিশ্বের মহামারি ভাইরাসগুলো চীনে প্রথম ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে গবেষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তাদের ডেটা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি তথ্য সামনে আসে।

হতে পারে চীনের মানুষের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল, আবার এটিও হতে পারে চীনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় উন্নত। এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *