ঝাড়ু বানাবো নারিকেল পাতা নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়। বুলডোজার দিয়ে বাড়ির ভেতরের একটি নারিকেল গাছ ভাঙা হয়, পরে জনতা নারিকেল নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এরপর নারিকেল গাছের পাতা ছিড়ে বেঁধে ঝাড়ু বানাতে নিয়ে যান এক নারী।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ছাত্র-জনতা বাড়ির আঙিনায় থাকা একটি নারিকেল গাছ ভেঙে দেয়। এ সময় উৎসুক জনতাকে ওই গাছের ডাব ও নারিকেল নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে দেখা যায়।

পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আসা এক নারীকে নারিকেলের পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। নারিকেল পাতা কেন নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারিকেল পাতা থেকে শলা বের করব। এরপর সেই শলা দিয়ে ঝাড়ু বানাবো। তার নাম জানতে চাইলে তিনি নাম বলেননি।

গতকাল বুধবার রাত থেকে শেখ মুজিবের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হলেও সকালে কিছু সময়ের জন্য বিরতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবারও শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে বাড়ি ভাঙার কাজ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বুলডোজার সরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাউকে দেখা যায়নি।

তবে সরেজমিন দেখা যায়, ইট, হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে বাড়িটি ভাঙছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়া বিভিন্ন কক্ষে এখনো আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপ ভবনের বিভিন্ন কক্ষে এবং বাইরে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বেলা ১১টার দিকে প্রথমে এক পুরুষ এসে জয় বাংলা স্লোগান দেন। এ সময় তাকে ঘিরে ধরে উপস্থিত উত্তেজিত ছাত্র-জনতা। এ সময় তাকে মারধরও করেন অনেকে। তাৎক্ষণিক উপস্থিত অনেকেই পুরুষটিকে ঘিরে ধরে মানববর্ম তৈরি করেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে একটি রিকশায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এর পর এক নারীও সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। আবার বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্র-জনতা। এ সময় তাকে ঘিরে ধরে নানা স্লোগান দিতে থাকেন উপস্থিত জনতা। পরে তাকেও সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ফেসবুকে ঘোষিত ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জড়ো হন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। রাত ১০টার দিকে বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়। পুরো এলাকা হয়ে যায় লোকে লোকারণ্য। রাত ১১টার দিকে বাড়িটির সামনে নেওয়া হয় ক্রেন। আর রাত সোয়া ১১টার দিক থেকে বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *