শোকে পাথর বাবার পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়ালেন জাইমা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মাত্র ক’দিন আগে বাবা–মায়ের সঙ্গে দেশে ফিরেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দেশে ফেরার দিন নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাদু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকার কথা জানান। পাশাপাশি বাবা তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলেন।

ওই পোস্টে উঠে আসে দাদুর সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতি, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশের সেবায় নিজেকে যুক্ত করার প্রত্যয়। তবে এত দ্রুত যে সেই সহযোগিতার দায়িত্ব বাস্তবে নিতে হবে, তা হয়তো ভাবেননি জিয়া পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের বড় সন্তান জাইমা রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবার হারায় তাদের শেষ অভিভাবককে। বাবাকে হারানোর ৪৪ বছর পর মাকে হারালেন তারেক রহমান। আর দাদাকে সরাসরি না দেখলেও স্মৃতির গল্প শুনে বড় হওয়া জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সন্তানরা হারালেন তাদের প্রিয় ‘দাদু’কে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা ও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারেক রহমান। এর মধ্যেই আসে মাকে হারানোর বড় ধাক্কা। ব্যক্তিগত শোক, পরিবারকে সামলানো এবং নেতাকর্মীদের আবেগ সবকিছু একসঙ্গে বহন করতে গিয়ে তিনি যেন শোকে পাথর হয়ে যান।

যে কারণে হয়তো ১৯ বছর পর বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে চোখের পানি ফেললেও, মায়ের মৃত্যুতে প্রকাশ্যে কাঁদতে দেখা যায়নি ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমানকে।

এমন বাস্তবতায় জিয়া পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বড় সন্তান হিসেবে জাইমা রহমানের কাঁধেই যেন এসে পড়লো বাবাকে সহযোগিতা ও পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব। দেশে ফেরার পর খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও, জাইমাসহ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন পুরো পরিবারকে হাসপাতালে একসঙ্গে দেখা গেছে মঙ্গলবার।

এদিকে বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লাল-সবুজে মোড়ানো কফিনে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাসভবনে আনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিবার ও তাদের স্বজনরা।

বাসার সামনে থেকে শেষ বিদায়ের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে তারেক রহমান বসে কোরআন তিলাওয়াত করছেন। অন্য স্বজনরা মুনাজাত করছেন। এসময় শোকাহত বাবার ঠিক পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *