ব্যর্থতার কারণে ক্রিকেটারদের জরিমানার পক্ষে নন আফ্রিদি

স্পোর্টস ডেস্ক
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি বলেছেন, জাতীয় দলের ব্যর্থতার জন্য খেলোয়াড়দের কেবল অর্থদণ্ড দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারছে না, তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানোই হবে যথাযথ শাস্তি।

সম্প্রতি একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জরিমানা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলা আলোচনায় নিজের মতামত তুলে ধরেন। আফ্রিদির ভাষ্য, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স খারাপ হলে তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত এবং প্রয়োজনে বিশ্রামও দেওয়া দরকার। শুধুমাত্র অর্থদণ্ড দিলে তাতে খুব বেশি পরিবর্তন আসে না।

তিনি বলেন, “তারা খুব ছোট করে ভাবছে- ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কী করা যাবে। আমার মতে এটা আসলে কোনো বড় শাস্তি নয়। যারা পারফর্ম করতে পারেনি তাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পাঠানো উচিত। এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যাদের আমি মনে করি অন্তত দুই বছর জাতীয় দলে ফেরা উচিত নয়। আমার মতে এই শাস্তিগুলোই যথেষ্ট।”

খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং দলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়েও নিজের মত দেন আফ্রিদি। তিনি বলেন, যাদের বিশ্রাম প্রয়োজন তাদের বিশ্রাম দেওয়া উচিত এবং দলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা দরকার। তাঁর মতে, এই ধরনের শাস্তিই যথেষ্ট। তিনি আরও বলেন, “যাদের বিশ্রাম দরকার তাদের বিশ্রাম দেওয়া উচিত এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পরিবর্তন আনা দরকার। এই শাস্তিগুলোই যথেষ্ট, ৫০ লাখ টাকাও যথেষ্ট। আর যতদূর জানি, এ বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।”

উল্লেখ্য, আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান দলকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে গত সপ্তাহে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা কে হারালেও সেটিই ছিল পূর্ণ সদস্য কোনো দলের বিপক্ষে তাদের একমাত্র জয়। এর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও ইংল্যান্ড এর কাছে হেরে যায় তারা। আর নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে ম্যাচটি কলম্বোয় টানা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

এর ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো পাকিস্তান। সর্বশেষ তারা শেষ চারে উঠেছিল আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২–এ, যেখানে রানার–আপ হয়েছিল দলটি।

এদিকে বিভিন্ন সূত্র বলছে, খেলোয়াড়দের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানা করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে সম্ভাব্য জরিমানা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। যেসব খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স খুবই হতাশাজনক হিসেবে বিবেচিত হবে, তারা বেশি শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। আর যারা সন্তোষজনক খেলেছেন, তাদের জরিমানার বাইরে রাখা হতে পারে।

বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে এবার পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলতে শিগগিরই সফরে আসছে বাংলাদেশ–এ। আগামী ১১ থেকে ১৫ মার্চ ঢাকা–তে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *