বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে এনএসসিতে তামিম

স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) গেছেন তামিম ইকবালসহ ক্লাব ক্রিকেটের কয়েকজন কর্মকর্তা। রোববার নির্বাচন বয়কট করা বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এনএসসিতে উপস্থিত হন তামিম।

তাদের অভিযোগ, বিসিবির সাম্প্রতিক নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে কাউন্সিলর নির্বাচন নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক থেকেই মূলত অসন্তোষের সূত্রপাত। পাশাপাশি ঢাকার ক্লাব বাছাই প্রক্রিয়া ও পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এসব ইস্যুর জেরে তামিমসহ ক্লাব ক্রিকেটের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তামিম বলেন, ‘আজকে আমরা একটা ফর্মাল কমপ্লেইন করতে এসেছি। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৭৬ ক্লাবের মধ্যে ৫০ ক্লাবই অভিযোগ জানিয়েছে যে নির্বাচক সঠিকভাবে হয়নি। এটাই তো অনেক কিছু প্রমাণ করে দেয়। আবাহনী-মোহামেডান সবচেয়ে বড় দুটি ক্লাব, তারাসহ সবাই একমত।’

বিসিবির বর্তমান পর্ষদকে অবৈধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক টাইগার এই অধিনায়ক বলেন,’এটা তো সময় বলবে। সঠিক পথে আবেদন করেছি আমরা। এগুলো সবই সেকেন্ডারি। ক্লাবগুলো একমত না বলেই লিগগুলো অনিশ্চিত হয়ে আছে। খেলা হচ্ছে না আমরা ভুলেই যাই। বোর্ডকে উত্তর দিতে হবে খেলা কেন হচ্ছে না।’

‘১২ দল নিয়ে খেলছেন, ৮ দলে ১০০-১৫০ প্লেয়ার। সেকেন্ড থার্ড ডিভিশনে আলাদা টুর্নামেন্ট করা হয়নি। প্রিমিয়ার লিগ না হলে কী হবে। এসব প্রশ্ন করতে হবে, উনাদের উত্তর দিতে হবে। উনারা কে কী করছে এসব নিয়ে ব্যস্ত। আমরা সঠিক পথে প্রক্রিয়া মেনে যাচ্ছি।’

তামিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্পোর্টসে নতুন স্ট্যান্ডার্ড সেট করা দরকার। আমরা সেভাবেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে জোরজবরদস্তির কিছু নেই। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের কথা বা প্রমাণ যৌক্তিক। এর বেশি কিছু না।’

এর আগে তামিম ইকবাল জানান, নির্বাচনে অংশ নিয়ে বোর্ডের পরিচালক হলে দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তার। বিশেষ করে ভারতের বেঙ্গালুরুতে থাকা মডেলের মতো একটি ‘এক্সিলেন্স সেন্টার’ গড়ে তোলার ভাবনা ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের স্কুল ক্রিকেটকে নতুন করে সক্রিয় করা এবং বোর্ডের অর্থ ব্যাংকে স্থবির না রেখে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

ক্রিকেট অঙ্গনে অনেকে ধারণা করেছিলেন, নির্বাচনে পরিচালক হিসেবে জয়ী হলে ভবিষ্যতে বিসিবি সভাপতির পদেও লড়তে পারেন তামিম। তবে নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্তের কারণে সেই সম্ভাবনা আর সামনে আসেনি। এখন তামিম ও ক্লাব কর্মকর্তাদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *