সিলেট প্রতিনিধি :
ভারতে গ্রেফতারকৃত সিলেট আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতা জামিন পেয়েছেন। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জুওয়াই ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের জামিন মঞ্জুর হয়। তবে, বাংলাদেশি পাঁচজন গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন ভারতের জুওয়াই এসপি চেম্ফাং স্মৃতি।
তিনি মুঠোফোনে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশি পাঁচজনকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছে। বুধবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
বুধবার রাত ১১টায় তিনি আরো বলেন, মূলত অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ভারতে থাকার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আদালতের নির্দেশ পেলে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে, গত মঙ্গলবার মেঘালয়ের আদালতে তাদের জামিন শোনানির কথা থাকলেও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। যোগাযোগ করা হলে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, চার আওয়ামী লীগ নেতার জামিন মঞ্জুর হয়েছে।
ভারতে আমরা বৈধভাবে অবস্থান করছি জানিয়ে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। যে কারণে স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। আমরা আশাবাদী ন্যায়বিচার পাব এবং গ্রেফতারকৃত নেতারাও মুক্তি পাবেন।
এদিকে, মেঘালয়ের ডাউকি পুলিশস্টেশনে দায়েরকৃত মামলার এজাহার রক্ষিত আছে। অভিযোগের কপি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ অক্টোবর দুপুর দেড়টার দিকে বাদীর দুটি ট্রাক ভাঙচুর, লুটপাট ও চালককে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। এতে অজ্ঞাত বাংলাদেশি নাগরিকও জড়িত থাকার থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
ডাউকি থানা পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অধীন ১১৮(১) মিথ্যা বিবৃতি/মিথ্যা নথি ব্যবহার), ৩০৯ (৪) ও ৩১০ (২) (ডাকাতি, ছিনতাই), ৩২৪ (৪) (বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা আঘাত করা) এবং ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্ট ধারায় এ মামলাটি রেকর্ড করে। এই মামলায় সিলেট আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগের পাঁচ নেতাকে গ্রেফতার করে ডাউকি পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য ইলিয়াছ আহমদ জুয়েল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ রিপন। তবে, আরো একজনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত শনিবার (৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কলকাতা শহরের হাতিয়াড়া এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ। গ্রেফতারের পরদিন রোববার (৮ ডিসেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বারাসাত কলকাতা জেলা দায়রা আদালতের বিশেষ ক্রিমিনাল আদালতে তাদের হাজির করা হয়। কিন্তু বিচারক উপস্থিত না থাকায় ভারতীয় আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিলংয়ের স্থানীয় আদালতে অপরাধীদের হাজির করা হবে এমন আশ্বাসে ট্রানজিট রিমান্ড না নিয়েই তাদের মেঘালয়ের জুওয়াই থানার উদ্দেশে নিয়ে যায় পুলিশ।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাদেরকে ডাউকি থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সেখানকার জুওয়াই আদালতে তাদের হাজির করা হয়। এ সময় আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের জামিনের আবেদন জানানো হলে আদালতে শুনানি হয়নি। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) আদালতে তাদের জামিন শুনানির দিন ধার্য্য ছিল এবং শুনানি শেষে জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।