৭২০ কোটি টাকা লোপাট আড়াই মাসে : বিপিএ

অর্থনীতি প্রতিবেদক :
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পোলট্রি মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ৭২০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।
বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে ৭২০ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। বিগত আড়াই মাসে কর্পোরেট সিন্ডিকেট মুরগির বাচ্চা বিক্রি করে ছোট খামারিদের কাছ থেকে এই অর্থ লোপাট করে।

এতে আরো বলা হয়, দেশে প্রতিদিন ৩০ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়। কোম্পানিগুলো বাচ্চাপ্রতি গড়ে ৩০ টাকা বেশি নিয়ে থাকে তাহলে দিনে ৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত নেয় কর্পোরেট চক্র। এভাবে গত আড়াই মাসে (৮০ দিনে) খামারিদের কাছ থেকে ৭২০ কোটি টাকা লোপাট করে নেয় চক্রটি। এতে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন খামারিরা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মুরগির বাচ্চা ও পোলট্রি ফিড পশু খাদ্য উৎপাদনের শীর্ষে রয়েছে– নাহার অ্যাগ্রো পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, কাজী ফার্মস পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, প্যারাগন পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, সিপি বাংলাদেশ, নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, পিপলস পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, ডায়মন্ড পোলট্রি অ্যান্ড পথচারীসহ ৮ থেকে ১০টি কোম্পানি।

এর মধ্যে গুটি কয়েক কর্পোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেট এবং ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে গত আড়াই মাসে মুরগির বাচ্চার দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিক বাজার দরে একটি বাচ্চার দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা থাকলেও তা ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে ৬০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছায়, যা গত ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুরগির বাচ্চায় সিন্ডিকেট চলমান ছিল।

সরকারের পদক্ষেপের ফলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে উল্লেখ্য করে বলা হয়, পোলট্রি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং খামারিরা কিছুটা স্বস্তি লাভ করেছেন। তবে এবার সরকারের দৃষ্টি পোলট্রি ফিডের দিকে দিতে হবে। পোলট্রি ফিডের দাম কমানো হলে ডিম মুরগির উৎপাদন খরচ আরো কমানো সম্ভব। ফলে ডিম ও মুরগির দাম ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।

বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, পোলট্রি ফিড এবং বাচ্চা উৎপাদনকারী কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কখনো ঘণ্টায়, কখনো মিনিটে দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করেছে। এসব অসাধু কার্যক্রম প্রান্তিক খামারিদের ওপর গুরুতর চাপ তৈরি করেছে, যার ফলে অনেক খামারি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক খামারি তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রায় ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়েছে এবং খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *