ক্রীড়া ডেস্ক :
বর্তমানে দেশের ক্রিকেট পাড়ায় যে কয়েকটি আলোচিত ইস্যু রয়েছে তার ভেতর অন্যতম, সাকিব আল হাসানের বোলিং নিষিদ্ধ। কয়েকদিন আগেই ত্রুটিপূর্ণ অ্যাকশনের কারণে তার বোলিং নিষিদ্ধ করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। যার কারণে বা হাতি এই অলরাউন্ডার ইসিবির কোনো প্রতিযোগিতায় বোলিং করতে পারবেন না। ইসিবির এই ঘটনার পর আইসিসিও তার বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। যার কারণে আইসিসির আয়োজিত কোনো আর্ন্তজাতিক ম্যাচে বোলিং করতে পারবেন না মিস্টার সেভেন্টি ফাইভ।
সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ, তবুও যেখানে বোলিং করতে পারবেন
আইসিসি ও দেশের বাইরে সাকিবের বোলিং আপতত নিষিদ্ধ। তবে দেশের বাইরের সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ হলেও দেশের ভিতরে সাকিব বোলিং করতে পারবেন। সেজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিয়ন্ত্রণ সকল টুর্নামেন্টে যেমন বিপিএল, এনসিএল ও দেশের সব ঘরোয়া টুনার্মেন্টে বোলিং করতে পারবেন। বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার কয়েকদিন পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেয় দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। সেখানে বিসিবি জানায়, ইসিবির অধীনে করানো পরীক্ষার ফল আইসিসিও স্বীকৃতি দিয়েছে। যে কারণে সাকিবকে এখন আইসিসি অধীনে স্বীকৃত কোন পরীক্ষাগারে পুনরায় বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে। যদি তিনি ওই পরীক্ষায় পাস করেন এবং বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি নেই এটা প্রমাণ করতে পারেন তবে আন্তর্জাতিক ও দেশের বাইরের টুর্নামেন্টে তিনি খেলতে পারবেন। তবে বিসিবির অধীনে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলতে বাধা নেই তার।
আইসিসির ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন সম্পর্কিত নিয়মের ১১.৩ ধারার ধারায় বলা আছে, একটি জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন যখন তাদের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় কোনো খেলোয়াড়কে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করে, তখন সেই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং অন্যান্য জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও প্রযোজ্য হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না।
সাকিব বোলিং নিষিদ্ধ, তবে কি ব্যাটিং নিষিদ্ধ!
সাকিব আল হাসানের বোলিং নিষিদ্ধ হলেও ব্যাটিং নিষিদ্ধ নয়। সাকিব আগের মতো সব ফরম্যাটে ব্যাটিং করতে পারবেন। আইসিসি অনুমোদিত সব ধারণের আসরে খেলতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তার ব্যাটিং নিয়ে কোনো নিষেজ্ঞা দেয়নি বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।
সাকিব যেভাবে আর্ন্তজাতিক বোলিং ফিরতে পারবেন-
আইসিসি বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত বিধি ১১.৪ অনুসারে, সাকিব আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পুনরায় বোলিং পরীক্ষার জন্য যেতে পারেন। আর তাতে বোলিং অ্যাকশন বৈধ প্রমাণ হলে, আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন। এই ব্যাপারে ইসিবি, আইসিসি এবং সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বোলার বল ছাড়ার সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকালে তা অবৈধ। সাধারণত বল ছোঁড়ার ক্ষেত্রে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে গেলে সেটিকে আইসিসির আইনে অবৈধ বলা হয়। এই কনুই বেঁকে যাওয়াটা লক্ষ্য করেন ম্যাচের আম্পারসহ অফিসিয়ালরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থার বায়োমেকানিক্যাল ল্যাবে পরীক্ষা হয়। এরপর ফলে নির্ধারিত হয় বোলারদের ভাগ্য।
ক্রিকেটের নিয়মনীতি ২১, উপধারা ২
বোলারের হাত কাঁধের উপরে পৌঁছে একবার ঘুরে এসে, বলটি হাতের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত কনুইয়ের জয়েন্ট সম্পূর্ণভাবে সোজা করে বল করতে হবে। একজন বোলারকে ডেলিভারি সুইংয়ে কব্জি বাঁকানো বা ঘোরাতে বাধা দেওয়া যাবে না।
বৈধ বোলিং কিভাবে করবেন সাকিব
ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংস্থা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) বলছে, কোনো বোলার বল ছাড়ার সময় কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকালে তা অবৈধ। সাকিব যদি আবারো নতুন করে বোলিং অ্যাকশন পরির্বতন করেন। পরিক্ষা দেন কিংবা পাস করেন তাহলে নতুন করে বোলিং করতে পারবেন।
ছবি: দেশের বাহিরে ভক্তের ক্যামেরায় সাকিব আল হাসান
ছবি: দেশের বাহিরে ভক্তের ক্যামেরায় সাকিব আল হাসান
কনুই এর আগে সর্বোচ্চ ৫ ডিগ্রি বাঁকানো যেত, মুরালিধরনের অ্যাকশন পরীক্ষা করতে গিয়েই সেসময় দেখা যায় অনেক বোলারের হাতই এতো অল্প ডিগ্রিতে থাকছে না। তখন আইন পরিবর্তন করে ১৫ ডিগ্রি বাঁকানোর সুযোগ রাখা হয়।
সাকিব ছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময়ে বোলিং নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন যারা-
ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ঘেঁটে দেখা যায়, সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের ‘দায়ে’ এখন পর্যন্ত আইসিসির সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন প্রায় দুই ডজনের বেশি বোলার। যাদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি খেলোয়াড় রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞায় পড়া এই বোলাররা হলেন- আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ এবং শেষে এই তালিকায় যুক্ত হন সাকিব আল হাসান।
আব্দুর রাজ্জাক
বাংলাদেশ দলের সেরা স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক অভিষেকের পর কয়েক বছর খেললে ২০০৮ সালে তার অ্যাকশনে সন্দেহের অভিযোগ তোলা হয়। পরীক্ষায় প্রমাণের ভিত্তিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় রাজ্জাকের ওপর। অ্যাকশন শোধরানোয় পরের বছরের মার্চে রাজ্জাকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে অফ-স্পিনার হিসেবে অভিষেক হয় অফ-স্পিনার সোহাগ গাজীর। কিন্তু তার এই চমক বেশি দিন থাকলো না। ২০১৪ সালের আগস্টে বোলিংয়ে সন্দেহজনক বলে অভিযুক্ত হয়ে নিষিদ্ধ হন গাজী। এরপর অ্যাকশন বদল করে ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে আবারও খেলার অনুমতি পান তিনি। কিন্তু অ্যাকশন বদল করলেও পরে আর জাতীয় দলের ফেরা হয়নি তার।
আইসিসির বোলিং অ্যাকশন বিতর্কে এর আগে নাম আছে বাংলাদেশ দলের তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের মাঝপথে টাইগারদের প্রধান দুই বোলিং ভরসার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আইসিসি। পরে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেন তারা।