স্পোর্টস ডেস্ক :
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গন। অবশেষে এলো সেই কাঙ্ক্ষিত সুখবর। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার হামজা চৌধুরী।
ফিফার ফুটবল ট্রাইব্যুনালের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস চেম্বার হামযাকে বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। ২৬ বর্ষী ফুটবলারকে নিয়ে নিজস্ব ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছে তার ক্লাব লেস্টার সিটি। লাল-সবুজ পতাকা হাতে হামজার ছবি আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা, আজ হামজা চৌধুরী তার জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের অধিকার পরিবর্তন করে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০১৫ সালে লেস্টারের হয়ে প্রথম মাঠে নামেন হামজা। এই ফুটবলার খেলেছেন ইংল্যান্ডের যুব দলে। লেস্টার সিটির এই ফুটবলার মাঝে ধারে বুরটন আলবিয়নের পর খেলেছেন ওয়াটফোর্ডেও।
বাংলাদেশি মা ও গ্রানাডিয়ান বাবার সন্তান হামজা। বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডের লাফবরোতে। খেলেছেন ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে। জামাল ভূঁইয়া-তারিক কাজীদের মতো বাংলাদেশের জার্সিতে তাকে দেখতে মুখিয়ে অনেকে। মায়ের দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা হামজার জন্য দারুণ কিছু বয়ে আনবে বলেই সকলের বিশ্বাস।
হামজা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাইছিলেন। বাফুফেও তাকে পেতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। আড়াই মাস আগে ইংল্যান্ড প্রবাসী এই ফুটবলার বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কাছ থেকে সম্প্রতি অনাপত্তিপত্র পেয়েছেন।
চলতি বছরের ১ অক্টোবর তার জন্মদিনে পোস্ট দিয়েছিল ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হামজার ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিল, ‘নতুন বাংলাদেশের আগামীর গর্ব হামজা।’
হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন চলতি বছরের জুনে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে তার পাসপোর্ট এসে গিয়েছিল মাসখানেকের মধ্যেই। লেস্টার সিটির হয়ে প্রাক মৌসুম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় বাংলাদেশি পাসপোর্টটা গ্রহণ করতে পারছিলেন না হামজা।
অবশেষে ২৩ আগস্ট হামজার পক্ষে পাসপোর্টটি গ্রহণ করেন তার মা রাফিয়া চৌধুরী। এই মৌসুমে লেস্টারের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে একটি এবং লিগ কাপে একটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা।