আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য লক্ষ্যস্থলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলা চলাকালে বিমানবন্দরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ছিলেন। হামলায় নিজে নিরাপদে থাকলেও তাদের বিমানের একজন ক্রু আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
এরইমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আর হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের নিয়ন্ত্রিত সানার ওই বিমানবন্দর ছাড়াও গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
হামলার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাবে।
হামলার সময় সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস উপস্থিত ছিলেন, বিষয়টি ইসরায়েলি বাহিনী জানত কি না, সে ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এএফপি জানতে চাইলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ‘শয়তান অক্ষ’ থেকে এ ‘সন্ত্রাসী শাখাকে’ (হুতি বিদ্রোহী) কেটে ফেলতে তারা বদ্ধপরিকর।
নেতানিয়াহু আরো বলেন, ‘আমাদের সেনাদের হুতি অবকাঠামো ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ, যারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
এদিকে হামলার সময় সানা বিমানবন্দরে ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস উপস্থিত ছিলেন, বিষয়টি ইসরায়েলি বাহিনী জানত কি না, সে ব্যাপারে এএফপি জানতে চাইলে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইসরায়েল ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে গতকাল বলেন, সানা বিমানবন্দরে হামলা ‘বিশেষ উদ্বেগের’।
আমাদের সেনাদের হুতি অবকাঠামো ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ, যারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব।
ইসরায়েলের হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, হামলায় তাদের বিমানের একজন ক্রু আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, বিমানবন্দরে অবস্থান করা জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্যরাও নিরাপদে আছেন। তবে তাদের যাত্রায় বিলম্ব হয়েছে।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বন্দী কর্মকর্তাদের মুক্তির জন্য গিয়েছিলেন ডব্লিউএইচও প্রধান। তার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির স্বাস্থ্যগত ও মানবিক অবস্থার মূল্যায়ন। এক্সে তিনি বলেন, গতকাল তাদের ওই কাজ শেষ হয়েছে। এরপর তারা বিমানবন্দর থেকে বিমানে উঠতে যাচ্ছিলেন। তখন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিমানবন্দরের বিমান নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, রানওয়েসহ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইয়েমেনে জাতিসংঘের বন্দী কর্মকর্তাদের মুক্তির জন্য গিয়েছিলেন ডব্লিউএইচও প্রধান। তার আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির স্বাস্থ্যগত ও মানবিক অবস্থার মূল্যায়ন। তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের ওই কাজ শেষ হয়েছে। এরপর তারা বিমানবন্দর থেকে বিমানে উঠতে যাচ্ছিলেন। তখন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিমানবন্দরের বিমান নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, রানওয়েসহ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপিকে বলেন, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছয়টির মতো হামলা চালানো হয়েছে। হামলা হয়েছে পার্শ্ববর্তী আল-দাইলামি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেও।
হুতি নিয়ন্ত্রিত আল-মাশিরাহ টিভি স্টেশন জানায়, হোদেইদা এলাকার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গতকালের এসব হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর আগে হুতি বিদ্রোহীরা এক বিবৃতিতে তিনজনের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেন হুতি বিদ্রোহীরা। গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলার কথা জানান তারা। গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা দেশটিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন। ওই হামলায় অন্তত ১২ ইসরায়েলি আহত হন। তেল আবিবের একটি পার্কে ওই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরায়েলে সেটি ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়।
ওই ঘটনার পর থেকে ইয়েমেনকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।