আন্তর্জাতিক ডেস্ক ;
কাজাখস্তানে বড়দিনের দিন দুর্ঘটনার শিকার হওয়া আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের বিমানটি রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করতে পারে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
শুক্রবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক ইঙ্গিতগুলো থেকে মনে হচ্ছে, এই বিমানটি রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বারা ভূপাতিত হতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ নিয়ে মন্তব্য করা অযৌক্তিক বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
সম্প্রতি কাজাখস্তানের আকতাউ শহরের কাছে আজারবাইজান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট জে২-৮২৪৩ বিধ্বস্ত হয়। এমব্রায়ার-১৯০ মডেলের এই যাত্রীবাহী বিমানটি বাকু থেকে রাশিয়ার চেচনিয়ার গ্রোজনি শহরের উদ্দেশে রওনা করেছিল। বিমানে থাকা ৬৭ আরোহীর মধ্যে ৩৮ জনের প্রাণহানি ঘটে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি। তবে তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।
বিমানটি রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের গুলির শিকার হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এটি চেচনিয়ায় অবতরণের চেষ্টা করেছিল।
রাশিয়ার সিভিল এভিয়েশন এজেন্সি বলেছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে চেচনিয়ার পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’।
কিরবিকে উদ্ধৃত করে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, বিধ্বস্ত বিমানটির যেসব ছবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে তার চেয়ে বেশি ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ধরা পড়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজারবাইজান মনে করে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে বিমানটির জিপিএস সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। এরপর এতে রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম থেকে আসা গুলি বা এ জাতীয় কিছুর আঘাত লাগে।
আজারবাইজান রাশিয়াকে দায়ী করেনি। তবে দেশটির পরিবহন মন্ত্রী রাশাদ নাবিয়েভ বলেছেন, বিমানটি ‘বাইরের হস্তক্ষেপে’র শিকার হয়েছে এবং অবতরণের সময় আক্রান্ত হয়েছে। প্রায় সবাই (যারা বেঁচে ফিরেছে) বলেছে, বিমানটি যখন গ্রোজনির ওপর ছিল তখন তারা তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।
নাবিয়েভ বলেন, তদন্তকারীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন কোন ধরনের অস্ত্র বা রকেট ব্যবহার করা হয়েছিল।