অগ্রগামী ডেস্ক
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে জোর তৎপরতা শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়। পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও চাওয়া হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখানো পাচার হওয়া কোনো অর্থ ফেরত আনা যায়নি৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট(বিএফআইইউ) এই তথ্য জানিয়েছে৷ রিজার্ভ হ্যাক করে হাতিয়ে নেয়া অর্থের এপর্যন্ত ৪০ ভাগ ফেরত এসেছে৷
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে৷ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনকে (আরসিবিসি)৷ ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করে৷
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শেখ হাসিনার শাসনামলের গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে৷
অন্যদিকে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২০২৪ সালে এক গবেষণায় ৫০ বছরে বাংলাদেশে থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ১১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা বলে জানায়৷ আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটি (জিএফআই) বলছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৯ হাজার কোটি বা ৯০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে৷
বর্তমান সরকার পাচার হওয়া অর্থের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে খুবই তৎপর৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বার বার বলেছেন বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে তা বিশ্বে নজিরবিহীন এবং একটি রেকর্ড৷
গত ২৮ অক্টোবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শুধু ব্যাংক দখলের মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক দুই লাখ কোটি পাচার করা হয়েছে।’