জলে কুমির ডাঙায় রাসেলস ভাইপার মাঝনদীতে ৪৫ দিন

বিনোদন ডেস্ক :
দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশের অনেকেই সীমানা পাড়ি দেন। শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নেন ভারতে। নিম্নবর্ণের (নমঃশূদ্র) হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ মাথা গোঁজেন পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ পরগণা জেলার দ্বীপ মরিচঝাঁপিতে। সরকারি আশ্বাসে বাসাও বাঁধেন তারা।
তবে সে আশ্বাস ছিল যেন ভোটের রাজনীতির অংশ। ভোট শেষ হতেই শুরু হয় উদ্বাস্তু উচ্ছেদ কার্যক্রম। মরিচঝাঁপিতে খাবার-পানি বন্ধ করে দেওয়া, ঘরে আগুন দেওয়া, নৌকা ডুবানোসহ নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে সেসময় ভারতের রাজ্য সরকার মানবিক হয়নি। নিন্দিত হলেও দেয়নি পাত্তা।

অবশেষে ১৯৭৯ সালের ১৬ মে উদ্বাস্তু শূন্য হয় মরিচঝাঁপি। সরকারি হিসেবে, সেখানে মোট নিহতের সংখ্যা মাত্র দুই জন হলেও বিভিন্ন হিসেবে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। গণহত্যার ওই ইতিহাস দৃশ্যমাধ্যমে চিত্রায়িত করেছেন সুকর্ন সাহেদ ধীমান। বানিয়েছেন ‘ফেউ’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ। আগামী ২৩ জানুয়ারি দেশের একটি ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পাচ্ছে।

‘ফেউ’-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। সুন্দরবনের মতো শ্বাপদসঙ্কুল জায়গায় শুটিং হয়েছে সিরিজটির। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। ঢাকা মেইলের সঙ্গে সেসব ভাগ করেছেন অভিনেতা।

শুরুতেই বলেন, ‘এটি অনেক দিন ধরে চাঁপা দেওয়া একটি ইতিহাস। ফিকশনাল জায়গা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজটি করা হয়েছে। সুন্দরবনের মতো জায়গায় দৃশ্যধারণ করা হয়েছে। অনবদ্য কাজ হয়ে থাকবে।’
মার্শাল নামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর। রহস্য জমিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মার্শাল নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। এ সম্পর্কে কিছু বলতে চাইছি না। দেখলে দর্শক গভীরতা আন্দাজ করতে পারবেন। এ ধরণের চরিত্র খুব কম তৈরি হয়। পরিচালক সুকর্ন সাহেদ ধীমানের প্রতি কৃতজ্ঞ। এত দারুণ একটি চরিত্র লিখেছেন এবং আমাকে সুযোগ দিয়েছেন।’

শ্বাপদসঙ্কুল সুন্দরবনে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘ওখানকার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ। সবসময় আতংকের মধ্যে থাকতে হয়েছে। টিমের সকলের প্রচেষ্টা ও সততা একসঙ্গে না হলে এটা সম্ভব ছিল না।’

‘ফেউ’য়ে অভিনয় করতে গিয়ে ডাঙায় পড়তে হয়েছে বিষধর রাসেলস ভাইপারের সামনে, জলে দেখতে হয়েছে কুমিরের আস্ফালন। উল্লেখ করে ‘রঙিলা কিতাবের প্রদীপ বলেন, ‘প্রচুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা রাতে লঞ্চে থাকতাম। ৪৫ দিনের মতো ছিলাম। থাকার অন্য কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মাঝনদীতে লঞ্চ বাঁধা থাকত। অনেক রাতে শুট শেষে ফেরার পর খাবার খেয়ে হয়তো চা খাচ্ছি তখন টের পেতাম কুমির একটি কুকুরকে টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেক বড়সড় কুমিরও দেখেছি। একটি অ্যাকশন দৃশ্য আছে যেখানে আমরা প্রথম রাসেলস ভাইপার আবিষ্কার করি। শ্বাসমূলের ওপর দিয়ে খালি পায়ে দৌড়ানো, কাঁদা— সুন্দরবনের এক অদ্ভুত ফিলিং।’

মোস্তাফিজুর নূরের চরিত্রটি কি ইতিবাচক না নেতিবাচক— জনতে চাইলে বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে বাঁধা যাবে না। ভয়াবহ ফিলোসফিক্যাল ও দুর্দান্ত লিডারশীপ আছে চরিত্রটির। আবার কোথাও মাফিয়া।’

বাংলাদেশের মানুষের বড় একটি অংশ জানে না মরিচঝাঁপির ইতিহাস। অভিনেতা মনে করছেন এই ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হলে দারুণ এক অভিজ্ঞতা হবে তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *