যুদ্ধবিরতি গাজায় ইসরায়েল-হামাস , এরপর কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান হতে চলেছে। এই যুদ্ধের ফলে গাজার ২৩ লাখ ফিলিস্তিনির বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর, হামাস এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে পেরেছে।

আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে তিন ধাপে এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন হবে। ইতোমধ্যে হামাস এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে, এখন পর্যন্ত ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদনের কথা রয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শেষ মুহূর্তের সংকটের জন্য হামাসকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর উগ্র-ডানপন্থি জোট এই চুক্তিতে সম্মতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আল-জাজিরার সাংবাদিক হামদাহ সালহুত জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি প্রদানে দেরি হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির ধাপ
যুদ্ধবিরতি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের কাছে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি প্রদান।

কাতার, মিশর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও যুদ্ধ পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনেও আলোচনা চলছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

১৯ জানুয়ারি (প্রথম দিন)
গাজার যুদ্ধবিরতি ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ওইদিন ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে আর কোনো গুলি চালানো হবে না। তবে, গাজার মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক ফিলিস্তিনি এখনো ইসরায়েলি হামলার শঙ্কায় রয়েছেন। গত কয়েকদিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজার মানবিক সহায়তা প্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি হয়েছে, এবং প্রতিদিন ৬০০ মানবিক সহায়তাকারী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করবে। তবে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ইতিহাস রয়েছে, তাই সহায়তা সংস্থাগুলো নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ গাজায় অনেক স্থানে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে।

২৫ জানুয়ারি (সপ্তম দিন)
যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে, ২৫ জানুয়ারি, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তর গাজায় ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। এদিন, উত্তর গাজার নেতজারিম করিডোরে গাড়ি এবং ব্যক্তিদের চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হবে। করিডোরটি দক্ষিণ এবং উত্তর গাজাকে বিভক্ত করেছে। তবে, ইসরায়েলি পক্ষ গাড়ি চেক করার জন্য একটি বেসরকারি কোম্পানি নিয়োগ করবে।

৩ ফেব্রুয়ারি (১৬তম দিন)
যুদ্ধবিরতির ১৬তম দিনে হামাস এবং ইসরায়েল দ্বিতীয় ধাপে আলোচনা শুরু করবে।

৯ ফেব্রুয়ারি (২২তম দিন)
যুদ্ধবিরতির ২২তম দিনে আল রশিদ স্ট্রিট এবং সালাহ আল-বিন স্ট্রিট থেকে কোনো বাধা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের উত্তর দিকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

১ মার্চ (৪২তম দিন)
এদিন যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১০০ কারাবন্দি ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মি মুক্তি পাবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৪ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে এবং যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ নিবে।

এছাড়া, ৯৪ জন জীবিত বা মৃত ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ১০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি মুক্তি পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ৯৪ জনের মধ্যে ৩০ জন নিহত হয়েছে।

৯ মার্চ (৫০তম দিন)
এদিন, ইসরায়েল ফিলাদেলফিয়া করিডোর থেকে সব সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নিবে।

১২ এপ্রিল (৮৪তম দিন)
এদিন থেকে যুদ্ধবিরতির তৃতীয় ধাপ শুরু হবে, তবে এর সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে এটি বাস্তবায়ন হতে হতে আরো সময় নিতে পারে এবং অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। যুদ্ধবিরতি সফল হলে গাজার পুনর্গঠন শুরু হতে পারে, তবে এটি একটি দীর্ঘ এবং জটিল প্রক্রিয়া হতে চলেছে। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *