আরেকটি এক-এগারোর ইঙ্গিত বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য : উপদেষ্টা নাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কড়া সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। ১/১১ এর বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিলো।’

বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটার দিকে নিজের ভেরিভাইড ফেসবুক আইডি ও পেজে দেওয়া এক পোস্টে একথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের জবাবে দেওয়া নাহিদের পোস্টে বর্তমানে বিএনপির অবস্থান ও সেনাশাসনের প্রেক্ষাপট তৈরির প্রসঙ্গ উঠে আসে।

নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে এক-এগারোর যেই প্রসঙ্গ টেনেছেন তা মূলত প্রায় দেড় যুগ আগে দেশে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম করেছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি এই সরকার ক্ষমতা নিয়েছিল। যারা দুই বছর ক্ষমতায় ছিল।

গত মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘যদি সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা নির্বাচন কনডাক্ট করা পর্যন্ত থাকবেন। তা না হলে তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।’ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক দল গঠন করে সরকার থেকে আলাদা না হয়ে নির্বাচনে সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব ওই কথা বলেন।
এ প্রসঙ্গে নাহিদ তার পোস্টে লেখেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। ১/১১ এর বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিলো। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ১/১১ সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।’

নাহিদ আরও লেখেন, ‘ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ই অগাস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ই অগাস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছ, তখন আমাদের আপোষকামী অনেক জাতীয় নেতৃবৃন্দ ক্যান্টনমেন্টে জনগণ কে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)।’

‘আমরা ৩ই অগাস্ট থেকে বলে আসছি আমরা কোনো প্রকারের সেনাশাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেব না। আমাদেরকে বারবার ক্যান্টেন্টমেন্টে যেতে বলা হলেও আমরা যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিং এর মাধ্যমে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চেয়েছিল বলে জানান নাহিদ। এ ব্যাপারে তিনি লেখেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার হলে ছাত্রদের হয়তো সরকারে আসার প্রয়োজন হতো না। জাতীয় সরকার অনেকদিন স্থায়ী হবে এই বিবেচনায় বিএনপি জাতীয় সরকারে রাজি হয় নাই। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরেই দেশে জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। অথচ বিএনপি জাতীয় সরকারের কথা বলতেছে সামনের নির্বাচনের পরে।’

‘ছাত্ররাই এই সরকারের এবং বিদ্যমান বাস্তবতার একমাত্র ফ্যাক্টর যেটা ১/১১ এর সরকার থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে। বিএনপি কয়েকদিন আগে মাইনাস টু এর আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের নামে আরেকটি ১/১১ সরকারের প্রস্তাবনা করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *