ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটসহ নানান জটিলতায় দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টা থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয় বলে জানিয়েছেন কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার নাথ।
গত ১৫ নভেম্বর থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার গ্যাস পুড়েও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ না থাকায় কারখানাটির উৎপাদন চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১৬০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কারখানাটিতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ টন সার উৎপাদন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর কারখানাটি উৎপাদনে ফিরে আসায় শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কারখানার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে প্রয়োজন হয় ৪৮ এমএমসিএফডি গ্যাস এবং গ্যাসের চাপ প্রয়োজন ৩৮ বার। কিন্তু বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস এবং গ্যাসের চাপ ৩৩ বার এর বেশি দিতে পারছিলেন না। এতে করে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ২ কোটি টাকার গ্যাস পুড়ে সার উৎপাদন করতে পারেনি। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহের দাবিতে বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে আশুগঞ্জ সার কারখানা সিবিএ এর উদ্যোগে কারখানার অভ্যন্তরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শ্রমিক কর্মচারীরা। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ দেওয়া না হলে জিটিসিএল ঘেরাও এবং রাজপথ অবরোধ করার হুমকি দিয়েছিল সিবিএ নেতারা।
আশুগঞ্জ সার কারখানা সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউসার জানান, কারখানাটি গত ৯ মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল। অনেক চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে শ্রমিক কর্মচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ ও গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্য আমাদের আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আশুগঞ্জ সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার নাথ বলেন, গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর পর উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্যাসের সমস্যা পুরোপুরিভাবে কেটে গেলে উৎপাদনেও গতি আসবে।