বিনোদন ডেস্ক :
দিন কয়েক পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ম-ম করবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণে। এতে সুবাস ছড়াবেন ফাহমিদা নবীও। সুরে নয়, শব্দমালায়। লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন নন্দিত এ গায়িকা। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২৫-এ শব্দশিল্প প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে ‘ফাহমিদা নবীর ডায়েরি’। প্রথম বইয়ের অনুভূতি প্রকাশে ঢাকা মেইলের কাছে খুলেছিলেন মনের আগল।
প্রথম বই আসছে। শুভানুধ্যায়ীরা শুভকামনা জানাচ্ছেন। কেমন লাগছে?
খুবই আনন্দ হচ্ছে। গান করি অনেক বছর হলো। কিন্তু বইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম। কেমন যেন লাগছে। ভয়, নার্ভাসনেস কাজ করছে। অন্যরকম অনুভূতি। বোঝানো যাবে না। নতুন এক জগতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছি। প্রথম গানের সময় যেরকম লেগেছিল ওইরকম লাগছে।
ছোটবেলা থেকে লিখতে পছন্দ করি। আব্বা (কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবী) গানের পাশাপাশি প্রচুর লিখতেন। তার লেখা গল্প ছাপা হয়েছে। আম্মা ডায়েরি লিখতেন। তাদের দেখেই লেখার স্পৃহা জেগেছিল। আম্মার স্বপ্ন ছিল লাইব্রেরির। প্রায়ই বলেন, তোমরা সবকিছু করো কিন্তু একটা বইয়ের র্যাক আনো না। বাসায় একটা বুকশেলফ থাকবে না! তিনি তার বই, ডায়েরিগুলো যত্নে রেখে দেন। আম্মার এই কাজগুলো আমাদের খুব ভালো লাগে। মায়ের প্রেরণাতেই লেখা। বইটা বাবা-মাকে উৎসর্গ করছি।
‘যদি’ কথাটি আমার খুব প্রিয়। জানি না কেন। প্রথম কবিতা লিখি সপ্তম শ্রেণিতে থাকতে। সেটিও ‘যদি’ দিয়ে লিখেছিলাম। ‘যদি’ শব্দটিকে আমার কাছে স্বপ্ন মনে হয়। আমার যদি এটা হতো, যদি এটা করতে পারতাম— কথাগুলোর মধ্যে স্বপ্ন আছে।
চিঠি লিখতে খুব ভালো লাগত। পড়তেও। আস্তে আস্তে অনুধাবনের জায়গা তৈরি হলো। তখন থেকে অল্প অল্প লেখা শুরু। একসময় সাংবাদিকরা লেখা চাইতে লাগলেন। অনেক আগের কথা বলছি। ২০০৩-এর দিকের। তখন থেকে নিয়মিত লিখি। নানা জনের ইন্টারভিউ নিতাম। অনেক বড় বড় মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। আমার বেশকিছু গল্প প্রকাশ হয়েছে। এরপর অনুধাবনমূলক লেখা শুরু করি। প্রশংসা আসতে লাগল। কেউ বলতেন, আপনার লেখা দেখে উৎসাহিত হই। কেউ নিয়মিত লিখতে বলতেন। এভাবে সবাই আমাকে লেখার মধ্যে নিয়ে আসে। তখন ভাবলাম একটা পেজ খুলি; যেখানে শুধু আমার লেখাগুলো থাকবে। এভাবেই ফাহমিদা নবী’স ডায়েরির শুরু। এরপর দেখলাম যেখানে যাই এখানেই আমার লেখালেখির প্রসঙ্গ চলে আসে। শো করতে গেলেও আমাকে নিয়ে বলার সময় লেখক পরিচয়টি দেন অনেকে।
২০২১ থেকে অনেকে বলছিলেন। তবে ডেইলি স্টার পত্রিকার সাংবাদিক শাহ আলম সাজু আমাকে বলল, ‘আপু, আপনার কিছু করতে হবে না। শুধু রাজি হন। যা করার আমি করব।’ ও দেখি একেবারে সব চূড়ান্ত করে এনেছে। আমি রাজি হলাম। চারু পিন্টুর সঙ্গে বসলাম। কীভাবে প্রচ্ছদ করতে হবে— বোঝালাম। এভাবেই হয়ে গেল। ৭ ফেব্রুয়ারি বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
অনুধাবনমূলক লেখা। যখন যেটা উপলব্ধি করি, যেটা ভাবি সেটা নিয়ে লিখি। লিখলে ভেতরটা হালকা হযয়। মুক্তি মেলে। মানুষ অনেক সুখে থাকলে লিখতে পারে না। তখন ভেতর থেকে কিছু সৃষ্টি হয় না। যখন খুব দুঃখের অনুভূতি হয়, সমস্যা থাকে— তখনই লিখতে পারে। সমস্যাগুলোর ইতিবাচক সমাধান কীভাবে করা যায়— এটাই আমার লেখার উদ্দেশ্য। সবাই যেন বুঝতে পারেন সেজন্য সহজ করে লিখি। শুরুতে অনেকে বলতেন, ‘আমার মনের কথা লিখেছেন। আমি আবার স্বপ্ন দেখব।’ আমিও স্বপ্ন দেখাতে বিশ্বাসী। ইতিবাচক ভাবনা পছন্দ। নেতিবাচক মানুষ ও পরিবেশের ধারে কাছে থাকি না।
লেখালেখির শুরু থেকেই কি বই প্রকাশের ভাবনা ছিল?
এরকম কখনও মনে হয়নি। বই বের করা তো একটা বিশাল ব্যাপার। ২০০৮ সালে পত্রিকায় লিখতাম নিয়মিত। তখন অনেকে বই করার প্রস্তাব দিতেন। পরেও দেখলাম অনেকে বলছেন। ভাবলাম একটা শুরু হতেই পারে।
শুরুটা হলো। ১০০টি লেখা নিয়ে বইটা হচ্ছে। এটা আমার সন্তানের মতো। ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব। আমার তো অনেক লেখা ওখানে। ধারাবাহিকভাবে হয়তো প্রকাশ পাবে।
কখন লেখেন?
চলতে চলতে, বলতে বলতে লিখি। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যখন যা মাথায় আসে। আবার দেখা যায় বিমানে অনেকক্ষণ বসে আছি তখন লেখা আসে না। কোনো কিছু লিখতে হলে আমাকে ঘটনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এই যেমন তোমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে দুটি কবুতর দেখছি। মাথায় লেখা এসে গেছে।
৪ জানুয়ারি আমার জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে কাছের মানুষ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ পেয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দুইটা আসবে। এছাড়া একটি প্রজেক্টর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। যেখানে সাতটি গান গাইতে হবে।