নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরিয়ায় হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) যোদ্ধারা গত ৭২ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের কর্মকর্তা।
সম্প্রতি সিরিয়া সংক্রান্ত মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে।
এইচটিএস, যারা গত মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করেছে, নতুন প্রশাসন গঠন করার পর পশ্চিম হোমস অঞ্চলে লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।
সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানায়, শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) তারা একটি ‘অপরাধী গোষ্ঠী’কে অভিযুক্ত করেছে, যারা নিরাপত্তা পরিষেবার সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালাতো।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, এসব গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ জনকে দ্রুত বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও সেখানে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, বলেও জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, নতুন শাসকগোষ্ঠী সুন্নি ইসলামপন্থি জোটের অধীনে হোমস অঞ্চলে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
এছাড়া, অবজারভেটরি জানিয়েছে, স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে গণ-গ্রেফতার, নৃশংস নির্যাতন, ধর্মীয় প্রতীকগুলোতে আক্রমণ, মৃতদেহের বিকৃতকরণ এবং বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
একটি নাগরিক সমাজ সংগঠন, সিভিল পিস গ্রুপ বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরাপত্তা অভিযানের সময় হোমস এলাকার একাধিক গ্রামে বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হয়েছেন। তারা নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা করারও নিন্দা জানিয়েছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল