বিনোদন ডেস্ক :
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘জ্বলে জ্বলে তারা’। ছবিটির মাধ্যমে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর বড়পর্দায় আসছেন এফ এস নাঈম। তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। ছবিটিতে কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন নাঈম।
এটি অরুণ চৌধুরীর সিনেমা। আমরা বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী এখানে কাজ করেছি। এরমধ্যে অন্যতম রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, আজাদ আবুল কালাম, ফজলুর রহমান বাবু, মোস্তাফিজুন নূর ইমরান, শাহেদ আলী সুজন। সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করেছেন।
শুটিং আগে শেষ হয়েছে। কিন্তু পোস্ট প্রোডকশনের কাজ ছিল। সেসব সারতে দেরি হয়ে গেছে। তবে এই গল্পটা এখন জরুরি না। ছবিটা ১৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে এটা-ই আসল কথা।
গত ৪-৫ বছরে আমি কয়েকটি কাজ করেছি। ‘মিশন হান্ট ডাউন’, ‘কারাগার’, ‘ওভারট্রাম্প’ এবং সবশেষ বাংলাদেশসহ বিশ্ব নন্দিত ‘কালপুরুষ’। এগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ‘জ্বলে জ্বলে তারার চরিত্র তিন শত ভাগ বিপরীত। কেউ বিশ্বাস করছিল না চরিত্রটি আমাকে দিয়ে সম্ভব। ওই জায়গা থেকে নিজেকে এবং দর্শকদের আশ্চর্য করতে কাজটি করা।
এখন-ই বলতে চাচ্ছি না। আগামী ৪-৫ তারিখের দিকে ট্রেলার আসবে। দেখলেই দর্শক বুঝতে পারবেন প্রস্তুতি কোন লেভেলের ছিল। তারপর বলব। তবে হ্যাঁ, শুটিংস্পটে থাকতে হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল।
শুটিং নদীর পারে ছিল। আমাদের নৌ-পথে যাতায়াত করতে হয়েছে। ট্রলারে যেতাম। মাঝে মাঝেই দেখতাম যাত্রীরা আমাদের শুটিং নিয়ে আলোচনা করতেন। একদিন বলাবলি করছে, ওই পারে কি শুটিং হয়। আমি বললাম, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করল নায়ক-নায়িকা আছে নাকি। আমার ও মিথিলার নাম উল্লেখ করে। বললাম, হ্যাঁ, এসেছে। উত্তরে বলল, তাদের কাজ ভালো। দেখেছি। এরপর আবার আমাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কোন দিক যাবেন। আমি বললাম, ওই পারেই নামব। আমার ছবির শুটিং নিয়ে আমার সাথেই গল্প করছে। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।
আমার কাছে মনে হয় না। কেননা আমি সব শাখায় কাজ করছি। দর্শকদের সামনে আছি। তবে হ্যাঁ, একটু উত্তেজিত। কারণ ‘জাগো’র পর সিনেমা হলে আরও একটি ছবি আসছে। আমি আসলে ওই মানুষটা না যে বাড়িয়ে বাড়িয়ে কথা বলে। আমি বলব, যে কয়জন মানুষ দেখুক তারা যেন বলেন, ছবিটা কেমন লাগছে। ভালো লাগলে ভালো বলবে খারাপ লাগলে খারাপ। ভুল থেকে শিখব। আর যে সময়টা বড় পর্দায় ছিলাম না ওই সময় দারুণ সব নাটকে কাজ করেছি। আবার সিনেমা করব। এখন তো আরও ফিট। অভিনয়ের জায়গা থেকেও আরও পরিপক্ক।
অনুদানের ছবির প্রতি দর্শকদের অনীহা কাজ করে। ওই জায়গা থেকে ‘জ্বলে জ্বলে তারা’ কতটা দর্শক টানতে পারবে বলে মনে করছেন?
বাংলাদেশে এখনও অনেক চলচ্চিত্রপ্রেমী আছেন যারা দেশের ছবি দেখতে হলে যান। সেই মানুষগুলো যদি দেখেন তাহলেও আমাদের সার্থকতা। অনুদানের কিংবা যে ঘরানার ছবি হোক না কেন নির্মাতা বা অভিনয়শিল্পীরা চান না তাদের ছবি খারাপ হোক। আমাদের দিক থেকেও সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল। ভুল হতেই পারে, অভিনযয়েও ঘাটতি থাকতে পারে। সেরকম হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই।
খুব কঠিন। বন্ধুর সাথে অভিনয় মোটেই সহজ না। তার ওপর ছিল রোমান্টিক দৃশ্য। আরও কঠিন। তবে সে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে এবং মিথিলা বলেই হয়তো ওই দৃশ্যগুলো সুন্দর করে তুলে ধরা গেছে।
একটা ‘কালপুরুষ’ করতে দুই বছর লাগে। জার্নিটাই ছিল ১৮ মাসের। আমাকে প্রচুর এফোর্ট দিতে হয়েছে। এটা ভারতের কোনো আর্টিস্ট করলে বাংলাদেশ থেকে হাততালি দিয়ে হাত ব্যাথা করে ফেলতাম। কিন্তু আমাদের মানুষের ক্ষেত্রে আমরা হাততালি কম দেই।
আমার মনে হয় কাজ অল্প করা-ই ভালো। ওটিটিতে আমি চারটি কাজ করেছি। চারটিই প্রশংসিত। অনেকের হয়তো একটা আলোচিত কিন্তু আমার সব কয়টা উল্লেখযোগ্য এবং আলোচিত। এছাড়া আমি অনেক কাজ করতে কখনোই চাইনি। উল্লেখযোগ্য কাজ করতে চেয়েছি। পাইকারি কিছু আপনি ২০ টাকা দিয়ে কিনবেন। কিন্তু এক্সক্লুসিভ কিছু পেতে হাজার টাকায় খরচ করতে হবে। খুব বেশি ব্যবহৃত হলে দ্রুত পুরনো হয়ে যায়। কারণ সময় এখন আগের মতো অ্যানালগ না। ডিজিটাল যুগে একজন মানুষ পুরনো হতে ছয় মাস কিংবা তিন মাসে যথেষ্ট। ইউটিউব ফেসবুক ইনস্টাগ্রামে সবসময় দেখা গেলে বেশিদিন মানুষ নেয় না। দর্শক নতুন কিছু পেতে পছন্দ করেন। নতুন কিছু দিতে হলে আপনাকে অবশ্যই রয়ে সয়ে দিতে হবে।