যে ধকলে ব্রাজিল ২০২৬ বিশ্বকাপে , আর সুবিধায় আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক :

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র হয়ে গেছে। কাগজে-কলমে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপকে সহজ বলতেই হয়! ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল মেসির দলের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান। এই তিন দলের মধ্যে অস্ট্রিয়া একটু শক্তিশালী হলেও বাকিরা তুলনামূলক সহজ। ফলে গ্রুপ থেকে সেরা বত্রিশে ওঠা আর্জেন্টিনার জন্য মোটামুটি নিশ্চিত মনে হচ্ছে।

অন্যদিকে, ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের পথটা একটু কাঁটায় ভরা। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওদের খেলতে হবে স্কটল্যান্ড, মরক্কো এবং হাইতির বিপক্ষে। হাইতি সহজ প্রতিপক্ষ হলেও স্কটল্যান্ড এবং মরক্কোর সঙ্গে লড়াইটা হবে কঠিন। বিশেষ করে মরক্কো তো সবাইকে চমকে দিয়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল! অ্যাটলাস লায়ন্সদের সাম্প্রতিক ফর্ম দেখে বোঝাই যায়, ব্রাজিলকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।

শুধু প্রতিপক্ষ নয়, ভ্রমণের দিক থেকেও ব্রাজিলের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ খেলতে ব্রাজিলকে মোট ১০৯৪ মাইল পাড়ি দিতে হবে। প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তারপর ২০ জুন ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির সঙ্গে এবং শেষ ম্যাচ ২৫ জুন মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এত দূরত্বের ভ্রমণ খেলোয়াড়দের ক্লান্ত করে তুলতে পারে।

আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ছবিটা একদম উল্টো। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্বে ভ্রমণ করতে হবে মাত্র ৪৬১ মাইল- ব্রাজিলের অর্ধেকেরও কম! প্রথম ম্যাচ ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মিসৌরির কানসাস সিটিতে। দ্বিতীয় ম্যাচ ২২ জুন অস্ট্রিয়ার সঙ্গে টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে। আর শেষ ম্যাচ ২৮ জুন একই ভেন্যুতে জর্ডানের বিপক্ষে। মেসি-ডি মারিয়ারা এক জায়গায় থেকেই গ্রুপ পর্ব শেষ করবেন।

বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের এই ভিন্ন ভিন্ন পথ দেখে ফুটবলপ্রেমীরা নিশ্চয়ই উত্তেজিত। কে জানে, নকআউটে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেখা হলে কী হবে! ততদিন অপেক্ষা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *