স্ট্রোকের খবরে বুলিংয়ের শিকার, আইনি পদক্ষেপ নিতে চান তৌসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক

স্ট্রোকের খবরেও বুলিংয়ের শিকার গায়ক তৌসিফ আহমেদ। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন।

আজ শনিবার নিজের ফেসবুকে তৌসিফ একটি পোস্ট দিয়েছেন। শ্রোতাদের মন দিয়ে তা পড়ার আহ্বান জানিয়ে গায়ক লিখেছেন, ‘গতকাল আমার স্ট্রোকের খবরে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নেতিবাচক কমেন্টস করেছেন। এতে আমার যায় আসে না তবে সাইবার বুলিং, মানহানি ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছি।’

ভিউ তো টাকা দিয়েও কেনা যায়: তৌসিফ
এরপর লেখেন, ‘আমার বাবা একজন বিবিএস ক্যাডার, তিনি সিভিল সার্জন ছিলেন তিন জেলায়। IHT-এর প্রিন্সিপাল ছিলেন। আমরা তিন ভাই বোন, ও তাদের পরিবারের বাকি সদস্যরাও ডাক্তার। ছোটো ভাই একজন মেধাবী প্রকৌশলী। যারা আমার ও আমার পরিবার সম্পর্কে লিখে তাদের জানা উচিত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ হতে, একজন কার্ডিওলজিস্ট হতে কত পড়াশুনা করতে হয়। আমি শুধু বলতে চাই, আমার নাম ডাক্তার তৌসিফ আহমেদ। আমার বাকি ভাই বোন ও তাদের স্ত্রী বোনের স্বামীও ডাক্তার। আমি পড়েছি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে। এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা টিউশন ফি কত যাঁরা ভুল ধারণা দিয়েছেন তাদের জানা উচিত।’

গায়কের কথায়, ‘আমার বাবা একজন সম্মানিত সিভিল সার্জন রংপুর ছিলেন। IHT (ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি)-এর প্রিন্সিপাল ছিলেন। আমার হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিক আরও ১৫ বছর আগেই ধরা পড়েছিল। আমার এই স্ট্রোক হয়েছিল। সিভিয়ার হাইপার গ্লাইসেমিয়ার কারণে এই স্ট্রোক হয়েছিল সকাল সাতটার পরপর।’

সবশেষে ‘দূরে কোথাও আছি বসে’ -এর গায়কের ভাষ্য, ‘যারা আমাকে যুগ যুগ চেনেন তারা জানান আমি কেমন মানুষ। প্লিজ আমার পরিবারকে ছোট করবেন না। তারা সবাই অনেক মেধাবী ও মানুষের সেবা করে যাচ্ছে। একজন লিখেছেন আমার নাম তৌসিফ উদ্দিন। এটা শতভাগ ভুল। আমার স্কুল, কলেজ ও মেডিকেল কলেজের নথিতে আমার নাম তৌসিফ। বড় শিল্পী হতে পারিনি। আমার প্রাপ্তি হলো আজ থেকে ২০ বছর পরেও আমার গান আমার ভক্তরা শোনে। এর চেয়ে একটা শিল্পীর আর কি পাওয়ার থাকতে পারে। একটা অনুরোধ থাকবে। আমার সম্পর্কে না জেনে প্লিজ মিথ্যা কোনো গুজব ছড়াবেন না, আপনি শত কোটি টাকার হিসেবে অন্য কাউকে গরীব বলতে পারেন না।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেইলকে তৌসিফ বলেন, ‘পডিজিটাল মাধ্যমে আমার স্ট্রোকের খবরের কমেন্ট বক্সে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। সে কারণেই পোস্ট দিয়েছি। একজন মানুষের অসুস্থতার খবর নিয়েও যারা বুলিং করে জানি না তারা মানসিকভাবে কতটা সুস্থ।’

গত ২৯ ডিসেম্বর নিজ বাসায় আকস্মিকভাবে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তৌসিফ। এ সময় মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি। ২৭টি সেলাই দিতে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি স্ট্রোক করেছেন। আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় গেল ১ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন তিনি।

সিডির জামানায় সংগীতাঙ্গনে আগমন ঘটে তৌসিফ আহমেদের। প্রথম অ্যালবাম দিয়েই তিনি জয় করেছিলেন শ্রোতাদের মন। ‘দূরে কোথাও আছি বসে’, ‘বৃষ্টি ঝরে যায়’, ‘এ মনের আঙিনায়’, ‘জান পাখি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *