নতুন বছরে চরকির প্রথম সিরিজ ‘আঁতকা’

বিনোদন প্রতিবেদক

বিদায়ী বছরের একদম শেষ দিকে এক আড্ডায় বসেছিলেন আবুল হায়াত, রোজী সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মৌসুমি নাগ, আরশ খান, সুনেরাহ বিনতে কামাল, সোহেল মণ্ডল, ফারিহা রহমান। দেশের জনপ্রিয় নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মধ্যে সূত্রধরের কাজ করছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার–লেখক–কণ্ঠশিল্পী রাবা খান। আবুল হায়াতের মতে সেটি ছিল ফ্যামিলি আড্ডা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এরা সবাই ফ্যামিলি কীভাবে? আসলে ‘আঁতকা’ নামের একটি সিরিজে সবাইকে দেখা যাবে এক পরিবারের অংশ হিসেবে। সে কারণেই শিল্পীদের কাছে সেটি হয়ে উঠেছিল ফ্যামিলি আড্ডা।

দেশের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’। ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টায় সিরিজটি মুক্তি পাবে চরকিতে। দর্শকদের জন্য নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে পরিবারকে কেন্দ্র করে সাজানো গল্পকে বেছে নিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। পারিবারিক প্রেক্ষাপটের আশ্রয়ে নির্মিত গল্পে বাঁক রাখা হয়েছে। রাবা খানের গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। গল্পকার ও নির্মাতা হিসেবে এটি তাদের প্রথম সিরিজ।

‘আঁতকা’ আসলে কী? রাবা ও নিধি বলেন, ‘আঁতকা একটা শব্দ যার অর্থ আচমকা। এটা খুবই লোকাল একটা শব্দ, আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি।’ নামটা চূড়ান্ত করার গল্প বলতে গিয়ে রাবা বলেন, “সিরিজের নাম কী হবে, সেটা নিয়ে একদিন আমি আর নিধি ফোনে কথা বলছিলাম। ওই আলোচনার মধ্যেই কয়েকবার ‘আঁতকা’ শব্দটা ব্যবহার করে নিধি। তখন আমাদের মনে হয় এটা নাম হতে পারে। আমরাও শব্দটা প্রায়ই ব্যবহার করি। নানা আলোচনা ও যুক্তির পর আমরা নামটা ঠিক করি।”

নিজের ব্যাখ্যা শেষ করে অন্যদের কাছে রাবা জানতে চান, ’আঁতকা’য় কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? সাবেরী আলম– খুব চমৎকার এক্সপেরিয়েন্স, রোজী সিদ্দিকী– ফ্যামিলি ড্রামা, আবুল হায়াত– ফ্যামিলি ফান, সুনেরাহ– ফান।

কার চরিত্র কেমন? মৌসুমি নাগ– রোজী আপা (রোজী সিদ্দিকী) বলছে সে নায়িকা, আবুল হায়াত– আমি নায়ক আর আরশ ছোটনায়ক, সুনেরাহ– আমার ক্যারেক্টারটা অনেক ঝাকানাকা, সোহেল মণ্ডল– আমরটা বলা যাবে না।

এসব উত্তর দিতে দিতে হাসি আর এক অপরের সঙ্গে মজায় মেতে উঠছিলেন আড্ডায় বসা শিল্পীরা। এরপর একে একে অনেক কথা বেরিয়ে আসে ‘আতকা’-এর শুটিংয়ের গল্প।

মজার ঘটনা বলতে গিয়ে সাবেরী আলম বলেন, ‘একটা সিনে তুষার ভাই (তুষার খান) মনে করেছেন আমি তার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছি। কিন্তু আমি অভিনয় করছিলাম তার তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর চরিত্রে। সিনটা ছিল ইমোশনাল, কিন্তু ভুল করার কারণে খুব মজা হয়েছিল।’ সাবেরী আলমের সঙ্গে যোগ করে আবুল হায়াত বলেন, ‘নাটকে তো আসেল তুষার স্ত্রী পায় না। এখানে (আঁতকা) স্ত্রী পেয়ে কনফিউজড হয়ে গেছে।’

রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেকদিন পর আমরা কিছু পুরনো মানুষ একসঙ্গে হতে পেরেছি। এত হাসাহাসি করেছি যে নির্মাতা বলতে বাধ্য হয়েছে যে, আপনারা প্লিজ হাসি থামান, আমাকে সিনটা করতে দেন। ছোটদের সঙ্গেই মজা করেছি। ওরা (ছোটরা) বুঝতে পেরেছে, বড়রা কী পরিমাণ ফানি হতে পারে।’

নবীন–প্রবীণদের কার চ্যালেঞ্জ কেমন ছিল? রাবার এমন প্রশ্নে আবুল হায়াত বলে ওঠেন, ‘অভিনয় করাটাই চ্যালেঞ্জিং। যেকোনো চরিত্রে অভিনয় করাটাই কঠিন। আর নতুনদের সঙ্গে কাজ করাটা আরও কঠিন কারণ ওরা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো অভিনয় করে।’

আরশ খানের উত্তর, ‘‘আমার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল দাদার সঙ্গে প্রথম দৃশ্যটা। সবসময় তাকে টিভিতে দেখেছি, আবুল হায়াত আমার কাছে ‘দ্য আবুল হায়াত’। সিনটা করব কীভাবে এটা ভেবে আগের রাতে জ্বর চলে এসেছিল।” এ কথা শুনে আবুল হায়াতের মন্তব্য, ‘আগে বলবা না, আমার কাছে প্যারাসিটামল তো ছিলই।’

সোহেল মণ্ডলের কাছে সবার সঙ্গে অভিনয় করাটা ছিল আনন্দের। ফারিহা রহমান বলেন, ‘আমার একটা ইমোশনাল সিন চলছিল। কান্নার সিন মূলত। আমি কাঁদছিলাম ঠিকই কিন্তু সেটা ভয়ে, এত গুণী শিল্পীদের সামনে আমি জাস্ট ভয়ে কেঁদে দিয়েছি। সবাই হয়তো মনে করেছে যে সিনের প্রয়োজনেই কাঁদছি।’

কান্নার কথা শুনে অন্য একটা গল্প মনে পরে আবুল হায়াতের। অভিনেতা বলেন, ‘অনেকদিন আগের কথা। মঞ্চে এক পরিচালক কান্নার নানান রকম টেকনিক শেখাচ্ছিলেন। একজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, স্যার আপনার যখন কান্নার প্রয়োজন হয় তখন আপনি কীভাবে কাঁদেন? আমি বললাম, আমার কিছু করতে হয় না, আমার স্ত্রী–এর কথা মনে করলেই কান্না চলে আসে। আর হাসেন কীভাবে? ওই, স্ত্রী–এর কথা মনে করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *