মুস্তাফিজু ইস্যুতে মুখ খুললেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব মাঠের ক্রিকেটে নিয়ে আসায় অনেকেই ভারতের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। এবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও।

আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বিসিসিআইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, কোনো ক্রিকেটারকে টার্গেট করা অন্যায়। এতে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না, বরং বিশ্বকাপের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

ওমর আবদুল্লাহ বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যদি লড়াই করতে হয়, সরকারকেই করুন, ক্রিকেটারকে নয়। খেলোয়াড়ের দোষ কী? তাকে বাদ দিলে কি বাংলাদেশে পরিস্থিতি বদলে যাবে?” ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মানুষ আমাদের কী ক্ষতি করেছে? বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল। বাংলাদেশ তো আমাদের দেশে সন্ত্রাস ছড়ায়নি।”

আইপিএল নিলামে কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয়। তবে পরে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এরপর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ভেন্যুতে নির্ধারিত ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর চেষ্টা করতে নির্দেশ দেয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

এর আগে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে ওমর আবদুল্লাহ বিজেপির বিরুদ্ধে খেলাধুলাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর ফুটবল দলে যখন বেশি মুসলমান খেলত, তখন তাদের আপত্তি ছিল। কিন্তু ক্রিকেট দলে মুসলমান কম হলে তাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা খেলাকে খেলা হিসেবে দেখি, আর তারা খেলাতেও ধর্ম খোঁজে।”

এ ছাড়া বিজেপি নেতা শ্যাম লাল শর্মার জম্মুর জন্য আলাদা রাজ্যের দাবির প্রতিক্রিয়ায় আবদুল্লাহ বলেন, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বানিয়ে বিজেপি ওই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে। “তাদের রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন তারা জম্মুর আলাদা রাজ্যের কথা বলছে,” বলেন তিনি।

মাতা বৈষ্ণোদেবী মেডিকেল কলেজে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বেশি আসন বরাদ্দের প্রতিবাদ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। “এই পরিবেশে পড়াশোনা করানোর চেয়ে অন্য কোনো মেডিকেল কলেজে তাদের স্থানান্তর করা ভালো। রাজনীতিকরণ হলে এমন কলেজ বন্ধ করে দেওয়াই শ্রেয়,” বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *