গুলশানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সদ্য একীভূত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান এলাকায় তারা এই বিক্ষোভ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে ২০২৪–২৫ সালের বিতরণকৃত মুনাফা মূল আমানত থেকে কেটে নেওয়ার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হন তারা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ‘হেয়ারকাট’-এর নামে মূলধন কাটা অন্যায় ও জুলুমের শামিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ব্যাংক রেজুলেশন রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমানতের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকের সব আমানত হিসাব নতুন করে হিসাবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যাংক একীভূতকরণ ও রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় আমানতের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হেয়ারকাট একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। সেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হচ্ছে সেগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

একীভূতকরণ সম্পন্ন হলে পাঁচ ব্যাংকের সব দায়, সম্পদ ও জনবল নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে যাবে এবং ধাপে ধাপে বিদ্যমান ব্যাংকগুলো বিলুপ্ত হবে।

ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চলমান ‘ব্যাংক রেজুলেশন স্কিম’-এর অংশ হিসেবে সব আমানত হিসাব পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য কোনো মুনাফা গণনা করা হবে না। নির্ধারিত হেয়ারকাট প্রয়োগ করে আমানতের চূড়ান্ত স্থিতি নির্ধারণ করা হবে। অভিন্ন ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *