স্পোর্টস ডেস্ক ;
সদ্য সাবেক আইসিসি চেয়ারম্যান গ্রেগ বার্কলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ভেঙে দিয়ে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে আলাদা দল গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। দীর্ঘ চার বছর দায়িত্ব পালনের পর নিউজিল্যান্ডের এই ক্রীড়া প্রশাসক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এমন মনোভাবের কথা জানান।
নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্কলে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তারা গত কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষত করোনা মহামারির সময় থেকে সংকট আরো বেড়ে যায়। ২০২৪ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসির মডেলের অধীনে ক্যারিবীয়রা আয়ের পাঁচ শতাংশেরও কম অংশ পাবে।
বার্কলে বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিকে তাকান। ওরা যা করেছে খেলাটির জন্য, সেটা আমি ভালোবাসি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন যে অবস্থায় আছে, তাতে কি টিকতে পারবে? তাদের জন্য প্রতিটি দ্বীপে ভাগ হয়ে যাওয়ার সময়টা কি এখনই?’
‘ব্যাপার হলো তারা কি টেস্ট চালিয়ে যেতে পারবে? আর্থিক অবস্থা এতই খারাপ যে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাটা তাদের জন্য এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। ব্যাপারটা যদি এভাবে ভাবেন, ক্রিকেট ছাড়া তাদের দ্বীপগুলোর মধ্যে আর কোনো কিছুতেই মিল নেই। তারপর নিজেদের একত্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হিসেবে ধরে রেখে তারা ক্রিকেটে যা অর্জন করেছে, সেটা অবিশ্বাস্য।’
‘অলিম্পিকসহ আরও কিছু একাধিক ইভেন্টের ক্রীড়া আসরে একটি বিষয় চোখে পড়ে বলে আমি মনে করি। গত বছর চীনে তারা এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট খেলেছে। আফ্রিকান গেমসও আছে, যেখানে ক্রিকেটও প্রথমবারের মতো ছিল। তারা প্যান আমেরিকান গেমসেও খেলতে চায়। তাহলে একাধিক ক্রীড়া ইভেন্টের আসরগুলোয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কি হয়? বার্মিংহামে কমনওয়েলথ গেমসে বার্বাডোজ শুধু তাদের অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছে। ভবিষ্যতে (ক্রিকেটে) কি হবে, এটা তার ছোট্ট ইঙ্গিত? আমি জানি না।’
টেস্ট মর্যাদা অব্যাহত রাখা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোত্তম স্বার্থ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, বার্কলে জিম্বাবুয়ে এবং আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন তোলেন। ২০১৮ সালে পূর্ণ সদস্যপদ অর্জন করে আইরিশরা। তার আগে জিম্বাবুয়ে ১৯৯২ সালে টেস্ট মর্যাদা পায়। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের আয়োজন বাতিল করে। এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তারা সিরিজের ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছিল।
‘কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবা দরকার। কিছু দেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করছে, যেটা তাদের হয়তো অনুচিত। আয়ারল্যান্ড কেন টেস্ট ক্রিকেট খেলছে? যে অর্থই তারা পাক, সেটা তৃণমূলে খাটিয়ে খেলোয়াড় ও প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিৎ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণই হলো ছোটদের এই খেলায় আনার একমাত্র উপায়। শনিবার কিংবা রোববার তারা সারা দিন লাল বলের ক্রিকেট খেলবে না। এটা ঘটবে না। সেই চেষ্টাও অর্থহীন। যতবারই তারা টেস্ট খেলতে নামে, ততবারই প্রচুর অর্থ হারায়। এটা করার কী কারণ? এর কোনো মানে নেই। জিম্বাবুয়ে কেন টেস্ট খেলছে? তারা সম্প্রচার চুক্তিতেও লোকসান দেয়। এসবের কোনো মানে হয় না।’
কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে বার্কলে একটি প্রস্তাবনাও তুলে ধরেন। বর্তমানে আইসিসির পূর্ণ সদস্য১২টি দেশ। টেস্ট খেলুড়ে পুরুষদের জাতীয় দলও ১২টি। সহযোগী সদস্য দেশ ৯০টিরও বেশি। কিন্তু আইসিসির আয়ের অর্থের সিংহভাগ ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। আইসিসির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যানের মতে, পূর্ণ সদস্যপদ সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে সম্পূর্ণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে রাজস্ব বরাদ্দ দেওয়া উচিৎ।
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলতে পারে, আমরা কেন পূর্ণ সদস্য থেকে ১৪টি অ্যাসোসিয়েশনে ভাগ হব (যদি দ্বীপগুলো ভাগ হয়)? কিন্তু ঠিকঠাক পরিচালনা করতে এটাই ভাবতে হবে। ক্রিকেট একটা অনন্য খেলা। একদিকে আপনার পূর্ণ সদস্যদেশ, অন্যদিকে সহযোগী দেশ। এগুলোর বিলোপ করে সামনে এগিয়ে যাও। কেউ হয়তো শীর্ষে থাকবে, কেউ ১২০তম। এসবের ওঠানামাও থাকবে। মাঠ ও মাঠের বাইরে মিলিয়ে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে র্যাঙ্কিং হোক। যত ওপরে উঠবেন, তত অর্থ পাবেন, তত আলোচনায় থাকবেন। পারফর্ম না করলে নিচে নেমে যেতে হবে।’