‘গণমানুষের নায়ক’ মান্নার ১৮তম প্রয়াণ তিথি

বিনোদন ডেস্ক
আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘এফডিসি’র নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। অভিনয় জীবনের শুরুতে কিছুটা চড়াই-উতরাই পার করতে হলেও নব্বইয়ের দশকে ‘আম্মাজান’, ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’ এবং ‘কষ্ট’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমার মাধ্যমে তারকা খ্যাতি পান। বলছি ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা মান্নার কথা।

রূপালি পর্দায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ তাঁকে ‘গণমানুষের নায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। চলচ্চিত্র নাম লিখিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার হয়ে যান মান্না।
অভিনয়ের পাশাপাশি মানবিক মানুষ ছিলেন। জীবনদশায় এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার এক বন্ধু চিকিৎসার জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। সাহায্যের কথা শুনে অভিনেতা নিজে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। নিজের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন মান্না।

ইন্ডাস্ট্রির ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন। বাংলা সিনেমায় অশ্লীলতা বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র ফিরিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে একের পর এক ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়ে ঢালিউডকে একাই টেনে নিয়ে গেছেন।

২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘গণমানুষের নায়ক’ খ্যাত এই অভিনেতা। আজ মান্না চলে যাওয়ার ১৮ বছর। ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতার প্রয়াণে ঢাকার রাজপথ মুহূর্তেই এক বিশাল শোকের মিছিলে রূপ নিয়েছিল। প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজারো ভক্তের ঢল নেমেছিল।

অভিনেতার মৃত্যুর দেড় যুগ পরও ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত তিনি। সিনেমাপ্রেমিরা মনে করেন, মান্না মরেননি। তিনি বেঁচে আছেন এ দেশের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসায় এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অমলিন ধ্রুবতারা হয়ে।

ফিল্মে বন্ধুত্বের কোনো মূল্য নেই, বলেছিলেন মান্না
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘আব্বাজান’,‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘অন্ধ আইন’, ‘মেশিনম্যান’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘মান্ধাতা’, ‘ভাইয়া’, ‘লাল বাদশা’, ‘জিম্মি’, ‘দুশমন দুনিয়া’-এর মতো দর্শকপ্রিয় ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *