ক্রীড়া প্রতিবেদক :
হোয়াটওয়াশ এড়ানোর মিশনে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট উইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়।
বাংলাদেশের সিরিজ পরিসংখ্যান-২০২৪
অন্য দুই ফরম্যাটের চেয়ে বাংলাদেশেরে একমাত্র ভরসা নাম ছিল ওয়ানডে ফরম্যাট। এই ফরম্যাটে গত কয়েক বছর ধরে ইতিবাচক পারফরম্যান্স করে আসলেও ২০২৪ সালে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছে টাইগাররা। বছরের চারটি সিরিজ খেলেই তিনটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। সুখকর স্মৃতি বলতে এ বছরের শুরুতে ঘরের মাটিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে ২-১ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে দুটি অ্যাওয়ে সিরিজ হেরে কোনোরকমে হোয়াটওয়াশ এড়িয়েছে লাল-সবুজের দল। এ বছরের শেষ ওয়ানডেতে ওয়েস্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন পরিসংখ্যান চলমান (২-০)। তৃতীয় ওয়ানডের আগেই এমন পরিসংখ্যান।
নিউজিল্যান্ডের স্মৃতি উইন্ডিজে ফিরে আনবে কি বাংলাদেশ?
২০২৪ সালে প্রথম অ্যাওয়ে ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে আগেই ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ করে ২৩৯ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করে মাত্র ২০০ রান করে। বৃষ্টি আইনে টাইগাররা হারে ৪৪ রানে। দ্বিতীয় ওয়ানডে কিউদের বিপক্ষে আগেই ব্যাট করতে নেমে কয়টি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৯১ রান। জবাবে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। তাতেই কিউইরা জয় পায় ৭ উইকেটের ব্যবধানে। তৃতীয় ওয়ানডে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সফরকারীরা। আগেই ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৯ অলআউট হয় কিউইরা। জবাবে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগার বাহিনী। চলতি বছর শেষ অ্যাওয়ে সিরিজে ওয়েস্ট উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম দুটি ওয়ানডেতে একইভাবে হেরেছে টাইগাররা। তৃতীয় ওয়ানডেতে সেই স্মৃতি ফিরিয়ে এনে জয় তুলে নিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে টাইগাররা হোয়াটওয়াশ এড়াতে পারবে কিনা- এটাই এখন দেখার বিষয়।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট উইন্ডিজ দুই দলের হার ও জয় প্রায় কাছাকাছি। দুই দলের মুখোমুখি দেখা হয়েছে এখন পর্যন্ত ৪৬ বার। যেখানে উইন্ডিজের ২৩ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশর জয় ২১টি। আর বাকি দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত। এ বছর মোট আটটি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে জয় তিনটি, হার পাঁচ। অন্যদিকে ২০২৪ সালে গত ম্যাচসহ ১১ ওয়ানডের খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিপরীতে হেরেছে ছয় ম্যাচ। জিতেছে ৫টি। দুই দলের চাইবে তৃতীয় ওয়ানডে জেতার।
আইসিসি র্যাংকিং
প্রত্যেক ম্যাচের পয়েন্টের ভিত্তিতে আইসিসির র্যাকিং নিয়মিত আপডেট হয়। উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে নামার আগে বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল ৮৫। একই পয়েন্ট ছিল আফগানিস্তানের। কিন্তু ভগ্নাংশে এগিয়ে থাকায় তারা ছিল ৮ নম্বরে, আর বাংলাদেশ ছিল ৯ নম্বরে। সর্বশেষ ম্যাচ হেরে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৮২। উইন্ডিজের বিপক্ষে এ ম্যাচ জিতলে টাইগারদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৪। সেক্ষেত্রে আইসিসি র্যাংকিং ৮ উঠার জন্য এ ম্যাচে জয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের চেয়ে ৮ পয়েন্ট কম উইন্ডিজের। তাদের পয়েন্ট ৭৬। তারা রয়েছে ওয়ানডে র্যাংকিং দশ নম্বরে।
ওয়ার্নার পার্কের পিচ
প্রথম দুই ওয়ানডের ভেন্যুতেই উইন্ডিজ ও বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচটি গড়াবে। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ওয়ার্নার পার্কের পিচ কিংবা মাঠটি হয়ে থাকে ব্যাটিং সহায়ক। এখানে ব্যাটাররা ইতিবাচক সুবিধা করতে পারেন, অর্থাৎ তারা এখানে বেশি রান পান। ব্যাটারদের ব্যাট এই মাঠে জ্বলে ওঠে। এই মাঠে গড় ৩০০ রানের অধিক। যে দল আগেই ব্যাট করে বেশি রান করতে পারবে সে দল জয়ের সম্ভবনা থাকবে। এই মাঠে বোলিং সুবিধা পেয়ে থাকেন ডানহাতি পেসাররা। বিগতে সময়ের পরিসংখ্যানে এমনটি দেখা যায়। এছাড়া মাঝে মাঝে স্পিনরাও সুবিধা পেয়েছে থাকেন। তবে সেক্ষেত্রে স্পিনের ধরণ হতে হবে লেগ স্পিন। অর্থা মাঝে মাঝে গুগলি বোলিং করলে উইকেট পাওয়ার সম্ভবনা থাকে স্পিনারের।
আবহাওয়া
ওয়ার্নার পার্কে আপাতত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা নেই। ১৪ কিলোমিটার ঘন্টায় বাতাস বইতে পারে। এছাড়াও ১৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
দুই দলের সম্ভব্য একাদশ
বোলিং বিভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশের। চিন্তা শুধু ব্যাটারদের অধারাবাহিক ফর্ম। টেস্টে জাকের আলী অনিক বাদে আর কেউই ভালো কিছু করতে পারেননি। প্রথম দুই ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটেই ধারাবাহিকতা লক্ষণীয়। শেষ ওয়ানডের আগে জাকের-রিয়াদের আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে যাক বাকি ব্যাটারদের মাঝে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সৌম্য সরকার, তানজিদ তামিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী, আফিফ হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা/শরিফুল ইসলাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশ: ব্রেন্ডন কিং, এভিন লুইস, কেসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক), শেরফানে রাদারফোর্ড, জাস্টিন গ্রিভস, রোস্টন চেস, রোমারিও শেফার্ড, গুডাকেশ মোতি, জেডেন সিলস, মারকুইনো মাইন্ডলি।