নতুন কমিটি ঘোষণা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। কমিটিতে ইউসুফ আহমদ মানসুরকে সভাপতি, মুহাম্মাদ মুনতাসির আহমদকে সহ-সভাপতি ও শেখ মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে সেক্রেটারি জেনারেল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে এ কমিটি ঘোষণা করেন তিনি।

নতুন কমিটি ঘোষণার আগে ইউসুফ আহমদ মানসুর কেন্দ্রীয় সম্মেলনে ১৩ দফা উপস্থাপন করেন। ১৩ দফা হলো-

পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ ও তার সব সহযোগী সংগঠনকে বিচারের আওতায় এনে বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিচার করতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী, হামলার নির্দেশদাতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে ভারতের নিকট থেকে নিজেদের সব হিস্যা বুজে নিতে হবে।
প্রচলিত ছাত্র রাজনীতি নয়, বরং জনকল্যাণমুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব ছাত্র রাজনীতি চর্চায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।
সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে এবং ক্যাম্পাসে সব মত ও পথের শিক্ষার্থীদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে, আহতদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারি চাকরিতে থাকা শূন্যপদ পূরণে দ্রুত সার্কুলার জারি করে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করে বেকারত্ব হ্রাসে রাষ্ট্রকে ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশপ্রেমিক সুনাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষার সব ক্ষেত্রে দেশীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সম্পদ ও শ্রমবাজার কাজে লাগিয়ে নিজস্ব অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পতিত সরকারের পাচারকৃত সব অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতিবাজ সাবেক আমলা, সংসদও পতিত সরকারের নেতাকর্মীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সংস্কারে বাধা বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান, তাই টেকসই সংস্কারের লক্ষ্যে বর্তমান সংবিধান বাতিল করে ইসলামের মূল ভিত্তিকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশের বোধ-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।
শিক্ষা নাগরিকের মৌলিক অধিকার, দেশের সকল নাগরিকের জন্য বৈষম্যমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নে একমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক, কর্মমুখী সার্বজনীন ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। সব নাগরিককে শিক্ষার আওতায় আনতে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক শিক্ষার স্তর দশম শ্রেণি পর্যন্ত নির্ধারণ করতে হবে।
ইসলামি খেলাফতবিহীন এ ভূমিতে মুসলিম উম্মাহর হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সম্মিলিত চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *