মাত্র ১০ শতাংশ দক্ষতা নিয়ে ক্রিকেট খেলি আমরা ,বাকিটা.

স্পোর্টস ডেস্ক :
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে জাতীয় দলের হয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাহানারা আলম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের স্কোয়াডে সেজন্য তাকে রাখা হয়নি।
জাতীয় দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি নিলেও ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন জাহানারা। আপাতত সিডনির স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।

বাঘিনীদের এই পেসার ক্রিকেট বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি খোলাসা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বিরতি নিইনি। শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছি। এটা আমি তাদের (বিসিবি) জানিয়েছি। তবে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে বিরতি নিলে আমি এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) খেলতে পারবো না।’

আমি বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেও খেলবো বিসিবিকে সেটা জানিয়েছি। যদি আমাকে এনওসি দেওয়া হয়, তবে আমি সব ধরণের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলবো। সব ধরনের ক্রিকেট খেলবো। শুধুমাত্র বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছি। কখন ফিরে আসবো, তা আমার উপর নির্ভর করে।’

এক বছরেরও বেশি সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন জাহানারা আলম। ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসার গত বছরের জুনে নারীদের এশিয়া কাপে আবারো স্কোয়াডে ডাক পান। এমনকি ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ দলেও তিনি ছিলেন। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজেও ছিল তার উপস্থিতি।

লাল-সবুজের জার্সিতে না খেলার কারণ নিয়ে জানতে চাইলে জাহানারা বলেন, ‘কোনো বিশেষ কারণ নেই। আমি দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেট খেলেছি, তাই বিরতি নেয়ার কথা ভাবলাম। সবকিছুই মানসিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই না? আমরা মাত্র ১০ শতাংশ দক্ষতা নিয়ে ক্রিকেট খেলি। বাকিটা মানসিক খেলা নয় কি? আপনি বলতে পারেন, আমার মানসিকভাবে একটা বিরতি দরকার ছিল।’

‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি (মানসিকভাবে) ভালো অনুভব করছি।সত্যিই খুব আনন্দিত। র্তমানে এখানে সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলছি, দলটি প্রথম শ্রেণির প্রিমিয়ার লিগে আছে। এছাড়াও আমি কোচিংয়ের ভূমিকা গ্রহণ করছি, এখানকার ফাস্ট বোলারদের সাহায্য করছি। এখানে আমি বৃত্তি পেয়েছি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, জাহানারার সঙ্গে জাতীয় নারী দলের প্রধান কোচ হাশান তিলকারত্নের মতপার্থক্যের কারণে তিনি বিরতি নিয়েছেন। কারণ হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পরেও একাদশে জায়গা না পাওয়া নিয়ে নাকি তার মনে আক্ষেপ ছিল। যদিও ডানহাতি এত পেসার বিষয়টি উড়িয়ে দেন।

‘না, তেমন কিছু নয়। যদি এরকম কোনো সমস্যা থাকত, তাহলে আমি কিছুক্ষণের জন্য দলের বাইরে আছি ভেবে পরে দলে আসার কথা ভাবতাম। আমার ক্ষেত্রে কারোর সঙ্গে ব্যক্তিগত ইস্যু নেই। আপনি যদি মনে করেন যে এটি কারণ ছিল তাহলে বলবো না। এরকম হলে আমি অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। কারণ আমি আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম এবং আমি দৃঢ়ভাবে ফিরে এসেছি।’

‘কেউ আমার বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ করতে পারেনি। তারা প্রমাণিত হলে, বোর্ড কোনো শুনানি ছাড়াই আমাকে ফিরিয়ে আনতে পারতো না। আমাকে বলা হয়েছিল, সবকিছুই একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। আপনি ভুলে যান যদিও এটি সহজ হবে না। আমি ২০২২ বিশ্বকাপের (বাদ পড়া) কথা বলছি। এটা আমার জন্য দুঃস্বপ্ন ছিল।’

বিরতি প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার আরো বলেছেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছি। টানা ১৫ এবং তারপর এক বছরের বিরতির পর ছয় মাস। এই ১৬ বছর খেলার এবং ১৮ বছর জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সময় আমি একটি বিরতি নিতে পারি। অন্তত একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হওয়ার কারণে এটি প্রাপ্য। তাই নয় কি? আমি বোর্ডের কাছ থেকে এটি চাইতে পারি, যাতে আমি পরে ফিরে আসতে পারি। সেটা (বিরতির বিষয়) আমি ফোনে বলেছি, আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নয়। আমি বিরতি নিচ্ছি এবং ফিরে আসার চেষ্টা করবো।’

‘আমি যখন সুমন (বিসিবি নারী উইংয়ের ইনচার্জ হাবিবুল বাশার) ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলি, তখন আমি উনাকে বলেছিলাম। ঘরোয়া অঙ্গনে পারফর্ম করার পর আমি জাতীয় দলে ফিরে আসার পদ্ধতি অনুসরণ করনো, যা আমি গত বছরও করেছিলাম। তিনি বললেন, ঠিক আছে, তুমি বিশ্রাম চাও এবং আমাদের এখানে কিছু বলার নেই। কারণ এটি তোমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তুমি আবার ভাবো। আমি উনাকে কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে আমাকে রাখতে বলেছি। কারণ আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলবো না। আমি যদি ঘরোয়া অঙ্গনে পারফর্ম করে ফিরে আসতে পারি, আমি তাই করবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *