নিজস্ব প্রকিবেদক ;
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।
মঙ্গলবার বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারাসহ, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতারা, বুদ্ধিজীবী শ্রেণি এবং প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট হত্যা মামলা দিয়েছে। প্রহসনমূলক বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করে চলেছে। এই অবৈধ দখলদার সরকার মানুষের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে চলেছে। দেশের জনগণের মানবাধিকার আজ গভীরভাবে সংকটাপন্ন। এই অসাংবিধানিক দখলদার গোষ্ঠী একদিকে মানুষ হত্যা করে চলেছে, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা করেছে, যা গণহত্যার শামিল। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে উদ্ভট ও মনগড়া হত্যা মামলার বিচারের নামে নিম্নরুচির সস্তা নাটক মঞ্চস্থ করছে।
তিনি বলেন, যারা নিজেরাই গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তারা কীভাবে অন্যের বিচার করবে। এর আগে হত্যা মামলায় জননেত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যখন শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর সুগভীর পরিকল্পনা চলছিল তখন এটা বুঝতে পেরেও তিনি বলেছেন- লাশের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাননি। আন্দোলনের আড়ালে ম্যাটিক্যুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ মানুষের মৃত্যুর বিপরীতে যে নেতা ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে দিতে পারে সেই নেতা কীভাবে হত্যা মামলার আসামি হয়?
বিবৃতিতে বাহাউদ্দিন নাছিম আরো বলেন, শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে কিছুদিন আগে গুম তদন্ত কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই। প্রচলিত কল্পকথা নিয়ে প্রস্তুতকৃত সেই প্রতিবেদনকে দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সরকার তার দমনমূলক নীতি থেকে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তারপরেই গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এটা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, এই সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্মূলে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। আমরা তাদের এই হীন তৎপরতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করতে। তা না হলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক জনগণ এই অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাব দেবে, ইনশাল্লাহ।