জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এবং ধানমন্ডি এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে রমনা পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত মালামালও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মঞ্জু (৪০), সাইফুল ইসলাম (৪০), রাসেল (২৮), জাহিদ (২৪), জাকির প্রকাশ তৌহিদ (৪০), ইসমাইল হোসেন (৩৩), হিরা শেখ (৩৫), রফিক (৩৫), বাধন (৩০), চাঁন মিয়া (৫৪), বেল্লাল চাকলাদার (৪৫) ও আসলাম খাঁন (৪৫)।
সোমবার সকালের রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, গত ৩ এবং ২২ জানুয়ারি রাজধানীতে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একটা ছিল ধানমন্ডির আড্ডা স্টুডেন্টের সামনে, গত ৩ জানুয়ারি। আরেকটি ঘটনা ২২ জানুয়ারি মোহাম্মদপুর এলাকার মধ্যে থাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে। এই দুই ডাকাতির ধরন ছিল একই।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ৬০ ড্রাম সোয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছিল একটি ট্রাক। ধানমন্ডির আড্ডা রেস্টুরেন্টের সামনে দুটি সাদা প্রাইভেটকারে ডাকাতরা এসে ট্রাকটি সিগন্যাল দিয়ে থামায়। এরপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে চালক ও হেলপারকে চেতনানাশক খাইয়ে হাত-পা বেঁধে কেরানীগঞ্জের রসুলপুর এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে ট্রাকটি নিয়ে যাওয়া হয় মুন্সীগঞ্জের দিকে। অন্যদিকে একইভাবে এ ঘটনার ১৯ দিন পর ২২ জানুয়ারি রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের সামনে ৭৫ ড্রাম তেলসহ একটি ট্রাক ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয় ৩০০ ফিট এলাকার দিকে। এই দুটি ঘটনাতেই চালকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও চেতনানাশক খাইয়ে ট্রাক ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় দুই থানায় দুটি মামলা হয়। এরপর ট্রাক দুটো পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ডিসি মাসুদ বলেন, পৃথক দুই ডাকাতির ঘটনার পর অপরাধীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঞ্জু, সাইফুল ইসলাম, মো. রাসেল ও জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি ডাকাতির মূল হোতা মো. জাকির প্রকাশ তৌহিদকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ আরশি নগর হতে, ইসমাইল হোসেন, হিরা শেখ, রফিককে ঢাকা কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে, বাধনকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ পানগাঁও হতে, চাঁন মিয়াকে মহাখালী এলাকা হতে, বেল্লাল চাকলাদারকে ঢাকার শনির আখড়া হতে এবং মো. আসলাম খাঁনকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরে গ্রেফতারকৃত আসলাম খাঁনের স্বীকারোক্তি ও তথ্যে মুন্সীগঞ্জের বিসিক এলাকার গোডাউন থেকে ১০টি তেল ভর্তি ড্রাম উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১ হাজার ৮৫০ কেজি ও বাজার মূল্য আনুমানিক দুই লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এছাড়াও ৩৬টি খালি তেলের ড্রাম, ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি সাদা নোহা গাড়ি, একাধিক বাটন ফোন ও একটি লুণ্ঠিত ট্রাক উদ্ধার করা হয়।