পোল্ট্রিতে স্থিতি: ডিমের ডজন ৯৮-১০০ টাকা, মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডিম ও মুরগির বাজারে আপাতত স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে। খুচরা বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকায়। একই সঙ্গে পোল্ট্রি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দামে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শ্যামপুর, পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাজার পরিস্থিতি এমন দেখতে পাওয়া গেছে।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি। কোথাও কোথাও ৯৮ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে সামান্য তারতম্য থাকলেও সার্বিকভাবে দাম স্থিতিশীল। পোল্ট্রি মুরগির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা— কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, ডিম ও মুরগির দাম স্থির থাকায় বাজার করা এখন তুলনামূলক সহজ হয়েছে। রাজধানীর পোস্তগোলা এলাকার রায়হান বলেন, আগে হঠাৎ হঠাৎ দাম বেড়ে যেত। এখন কয়েক সপ্তাহ ধরে একই দামে কিনতে পারছি। এতে মাসের বাজার খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে।

অপর এক ক্রেতা জানান, ডিম আর মুরগি প্রতিদিনের রান্নায় লাগে। দাম স্থিতিশীল থাকায় আলাদা করে চিন্তা করতে হচ্ছে না।

খুচরা পোল্ট্রি বিক্রেতারা জানান, খামার থেকে নিয়মিত সরবরাহ থাকায় বাজারে এই স্থিতিশীলতা এসেছে। যাত্রাবাড়ী বাজারের বিক্রেতা শামীম বলেন, ফার্ম থেকে মুরগি ও ডিম নিয়মিত আসছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো থাকায় দাম বাড়েনি।

এদিকে খামারিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ পুরোপুরি কমেনি। তবুও বড় কোনো সংকট না থাকায় তারা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারছেন। তারা জানান, ফিডের দাম এখনও একটু বেশি। তারপরও উৎপাদন ঠিক থাকায় বাজারে ডিম ও মুরগির ঘাটতি নেই।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিম ও মুরগির দামে এই স্থিতিশীলতা ইতিবাচক। তারা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি থাকলে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিক দাম বাড়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সামনে কয়েক সপ্তাহ ডিম ও পোল্ট্রি মুরগির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তবে ফিড, পরিবহন বা বিদ্যুতের খরচ বাড়লে বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ডিম ও মুরগির বাজারে বর্তমান স্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। এই অবস্থা বজায় থাকলে নিত্যখরচে আরও কিছুটা ভারসাম্য ফিরবে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *