বিনোদন ডেস্ক
এগারো দিন কারাবাস শেষে চেক বাউন্স মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা রাজপাল যাদব। এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন জেলখানার দুঃসহ স্মৃতি।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল আমার পরিবারের থেকে দূরে থাকা। এর বাইরেও, আমি একটা রুটিন মেনে চলতাম। আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম, ব্যায়াম করতাম এবং মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার চেষ্টা করতাম।’
তার আইনি মামলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাজপাল যাদব বলেন, ‘এই বিষয়টা বহু বছর ধরেই চলছে। আমার মনে হয়েছে এটা আইনের পথে মীমাংসা হলেই ভালো হবে।’
জামিনে বেরিয়েই উদ্দাম নাচ রাজপালের
রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা বলেন, ‘সকল সম্ভাব্য আইনি এবং সম্মানজনক বিকল্প বিবেচনা করা হয়েছে। কখনও কখনও একটা সমাধান কেবল ইচ্ছাশক্তির ওপর নয়, সময়ের ওপরও নির্ভর করে।’
রাজপাল বলেন, ‘আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই সময়ে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আকর্ষণীয় ছিল তা হল মানুষের আস্থা। আমার মতো কারও জন্য তাদের শ্রদ্ধা, সময় দেওয়া, আমার কথা শোনা সবটাই আমার জন্য বড়পাওয়া।’
প্রায় দেড় দশক আগের ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লির আদালত রাজপালকে তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন।
আদালত তার নির্দেশনায় বলেন, ‘আদালত আবেদনকারীর (রাজপাল যাদব) তিহার জেল সুপারিনটেনডেন্টের কাছে আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদনের কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছে না। তাঁকে আজই (৪ ফেব্রুয়ারি) তিহার জেল সুপারিনটেনডেন্টের কাছে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
যে শর্তে জামিন মিলল রাজপালের
জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাইকোর্টের আদেশের পরপরই বিকেল ৪টার দিকে অভিনেতা জেল সুপারিনটেনডেন্টের কাছে হাজির হন।
মামলার সূত্রপাত ২০১০ সালে। ‘আতা পাতা লাপাতা’নামের একটি সিনেমা প্রযোজনা করেন রাজপাল। ছবিটি নির্মাণের জন্য তিনি মেসার্স মুরালি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি। সুদ, জরিমানা ও বিলম্বের কারণে সময়ের সঙ্গে সেই ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৯ কোটি।